”অনৈক্য নয় বিভক্তি নয় আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই” ঝিনাইদহে জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান

সাইফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সংবাদদাতা-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকাতে পারবে না,তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। ২৪শে নারীদের অবর্ননীয় ত্যাগের বর্ণনা করে বলেন,মায়েদের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।তিনি বলেন, অনৈক্য নয়,বিভক্তি নয় ঔক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমিরে জামায়াত শহীদ হাদি ওসমানের ইনকিলাব মঞ্চ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় তিনি বলেন, যারা বিগত আমলে নিজের সন্তান হারিয়েছেন কেউ স্বামী হারিয়েছেন, কেউ স্ত্রী , ভাই, বোন হারিয়েছেন, অবুঝ শিশুরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন। আমি আজ তাদের হয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার যাদেরকে নির্মমভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় করেছেন আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে। সেসময় আমি তাদের চেহারগুলো দেখেছি, তাদের বুকের আকুতি ও চাহুনী দেখেছি। আমি স্বামীহারা স্ত্রী ও পিতাহারা সন্তানের চোখের কোণায় পানি দেখিনি, দেখেছি রক্তের ফোঁটা। ফ্যাসিবাদী শাসক তাদের শাসন ব্যবস্থা কেয়ামত পর্যন্ত সম্ভবত চালানোর আশা করেছিল। এই পথে যাদেরকেই বাঁধা মনে করেছিল তাদেরকেই তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। একই ফ্যাসিবাদকে আর মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া মানুষের আপনজনেরা যদি জানতো যে, তাদের আপনজনের কবর ওমুক যায়গায় দেওয়া হয়েছে তাহলে তারা অন্তঃত কবরের পাশে গিয়ে একটু শান্ত্বনা নিতে পারতো। সে সুযোগটুকুও তাদের জন্য রাখা হয়নি। আমি তাদের জন্যই আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
সিন্ডিকেট করে যাদের পকেট থেকে জোর করে টাকা নেয়া হয়েছে, চাঁদাবাজী করে যাগেরকে কষ্ট দেয়া হয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে মোবাইল ওপেন করে দিয়ে বলেছে তোর মাকে বল, বাবাকে বল টাকা নিয়ে আসতে আমি সেই মজলুম মানুষের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি।
তিনি উপস্থিত জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদের কাছে জানতে চা্ই সেই ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে বাংলাদেশে আবার চলে আসুক আপনারা কি সেটা চান? আপনারা দেখেছেন আমাদের ছেলে মেয়েরা কিন্তু ২৪শে তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল।
তিনি বলেন এই ঝিনাইদহ দক্ষিণবঙ্গের বড় শহীদী ময়দান। শহীদ সোহানের চোখ উপড়ানোর কথা উল্লেখ করে বলেন এখানে যত মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে যা অন্য কোথাও হয়নি। শহীদ সজীবের দুই কন্যা সন্তানের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন আমরা সেই ফ্যাসিবাদকে আর ফিরে আসতে দেব না। আমরা বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছি কেউ ওইরুপে ফিরে আসতে চাইলে আবার বুকের রক্ত দিয়ে তাদেরকে রুখে দেব ইনশাল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই। দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে বলেন,তোমাদের লজ্জা করে না। দুর্নীতি ছেড়ে দাও নয়লে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা কর। চাঁদাবাজির থেকে ভিক্ষা করা সম্মানের ।
ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর এর সভাপতিত্বে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।
বিশাল এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন, ছাত্র শিবিরের কেন্দীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, শরীক নেতা রাশেদ প্রধান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যপক মতিয়ার রহমান,ঝিনাইদহ-৪ আসনের আবু তালিব ও ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানসহ জেলা নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতের আমিরের জনসভা কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে থাকে। বিকাল গড়ানোর আগেই কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভার মাঠ। পুরো ঝিনাইদহ শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে সড়ক পথে ঝিনাইদহে এসে পৌছান জামায়াতের আমির। এরপর সরাসরি সমাবেশস্থলে পৌছে মঞ্চে ওঠেন। ৬ টা ৫৫ মিনিটে বক্তৃতা শুরু করেন আমিরে জামায়াত। মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তব্যে আগামির বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত রুপরেখা তুলে ধরে বলেন,মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতেকটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজ করেই আমরা বসে থাকবো না। উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সঠিক শিক্ষা ছাড়া ভালো জাতি গড়া সম্ভব না। আমরা ঘোষণা করেছি বেকার সমস্যার সমাধান করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।
রাস্তার বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের কি জনশক্তি নাই। তাহলে অবকাঠামো কেন উন্নয়ন হচ্ছে না। রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি জামায়াত ইসলামী ক্ষতায় গেলে লুটকারীদের পেটে হাত দিয়ে সব সম্পদ বের করে আনা হবে, সেটা দেশে অথবা বিদেশে। বেকারদেরর ভাতা দিয়ে আমরা অপমানিত করতে চাই না। বেকারদের যোগ্যতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন,এ জাতির সন্তানেরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আমরা তাদের সম্মান দিতে চাই। ২৪ এ বিপ্লব করেছে, ২৬ আরেকটি বিপ্লব করতে হবে। আগামি ১২ তারিখে ব্যলট বিপ্লব করতে হবে। দেশের উন্নয়নে এ বিপ্লব করতে হবে।
বক্তৃতা শেষে তিনি জেলার চার সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের দাড়িপাল্লার প্রার্থী ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা উপজেলা) এএসএম মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকু-ু) আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের ৪টি ইউনিয়ন) মাওলানা আবু তালিবকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দাড়িপাল্লা তুলে দেন।##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *