‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির, অপরদিকে একটি দলের বড় বড় অনিয়ম প্রশাসনের চোখে পড়ে না: নাসীরুদ্দীন

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে। রোববার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন।
বেকার ভাতা প্রসঙ্গে দলটির আমির বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেবো না। রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও দেবো না। এতে বেকারত্ব কমবে না, আরও বাড়বে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেবো। জামায়াত আমির বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে, আর সেই লক্ষ্যেই যুবকদের এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণরা মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এদের জন্য আমাদের মায়া হয়। তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে সারাদেশকে ফুলের মতো সাজানো হবে। যে দেশ নিয়ে মানুষ গর্ব করবে। আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করবো না, প্রশ্রয়ও দেবো না। নিশ্চয়ই মানুষ এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাকে ভোট দেবে।

‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। আমাদের প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে। ভোট কারচুপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহারা দিতে হবে ভোটের। কেউ ভোট দখল করতে এলে প্রতিরোধ করতে হবে। বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির দলীয় প্রতীক প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের জোট প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতেও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, একটি দলের বড় বড় অনিয়ম প্রশাসনের চোখে পড়ে না। তবে ছোট-খাটো বিষয় নিয়েও অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোববার রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনি বাজারে নির্বাচনি প্রচারণাকালে এ অভিযোগ করেন তিনি। পরে এজিবি কলোনি, মতিঝিল মডেল স্কুল ও এজিবি কলোনি হাসপাতাল এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমর্থকদেরও ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সিল দেওয়ারও আহ্বান তিনি।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের রাজনীতি বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন। জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় মহানগরী ও স্থানীয় নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *