নাটোরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে পৌরসভার আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স সমালোচনার মুখে একদিনেই বন্ধ প্রচারণা
আব্দুল মজিদ, স্টাফ রিপোর্টার :
নাটোরে জনস্বার্থে ব্যবহৃত পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইসিইউ সমৃদ্ধ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় ব্যবহারের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর একদিনের মাথায় ওই অ্যাম্বুলেন্সের প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সোমবার সকাল থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় নাটোর পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের দৃশ্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো রয়েছে এবং সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে মাইকিং করা হচ্ছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে প্রথমে এবং পরে কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে অ্যাম্বুলেন্সটিকে আকর্ষণীয় প্রচারণার গাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচনার মুখে পরদিনই এই প্রচারণা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুতে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র উমা চৌধুরি জলি’র হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মুনছুর বলেন,
“জরুরি রোগী সেবার জন্য নির্ধারিত পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি যদি ভোটের প্রচার, মাইকিং ও ব্যানার বহনের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে একদিকে জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন এটি ভোটের কাজে ব্যবহৃত হলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়? বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
নাটোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন,
“অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো অবস্থায় সেটি বর্তমানে পৌরসভার গ্যারেজে রাখা হয়েছে। কীভাবে এবং কার নির্দেশে অ্যাম্বুলেন্সটি ভোটের প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে আগে জানানো হয়নি।”
এ বিষয়ে নাটোর পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস.এইচ.এম. মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন,
“বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
সরকারি ও জনস্বার্থে ব্যবহৃত একটি জীবনরক্ষাকারী অ্যাম্বুলেন্স নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা ও জনসেবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

