ইসলামের নামে আবেগে ঈমান বিসর্জন নয়—সচেতনতার আহ্বান পীর ছাহেব ছারছীনার
স্টাফ রিপোর্টার:
আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, ইসলামের নাম দেখলেই আবেগপ্রবণ হয়ে নিজের ঈমানকে বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বরং যাচাই-বাছাই করে, হক্কানী আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলের শেষ দিনের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পীর ছাহেব কেবলা বলেন, প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, বিদ্বেষ, সহিংসতা ও মারামারির মানসিকতা কখনোই একজন প্রকৃত মুমিনের চরিত্র হতে পারে না। কাউকে নসিহত করতে হলে তা হতে হবে সংশোধনের নিয়তে। আমাদের সব কার্যক্রম হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। লোক দেখানো ইবাদত বা কাজ নিছক নেফাক ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি শ্রেণি ইসলামের নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এসব ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, “আমি যা কিছু বলি তা কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং সমাজের ইসলাহ বা সংশোধনের উদ্দেশ্যেই বলি।”
সমাজের কিছু নামধারী ব্যক্তির সমালোচনা করে পীর ছাহেব বলেন, একদল লোক আক্বীদার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মহান আল্লাহ, নবী-রাসূল (আঃ), সাহাবায়ে কেরাম এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়ে বেফাঁস মন্তব্য করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এ দেশে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আসেনি; ইসলাম এসেছে আউলিয়ায়ে কেরামদের হাত ধরে। যারা বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পীর ভাই-মুহিব্বীনদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দুনিয়াবী কাজে আমাদের মা-বোনদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষভাবে পর্দার ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এমন কোনো কাজে পরিবারে নারীদের যুক্ত করা যাবে না, যা পর্দার খেলাফ বা শরিয়তবিরোধী।
দুই দিনব্যাপী এই মাহফিলে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাওলানা কাফিলুদ্দীন সরকার ছালেহী, ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রূহুল আমিন আফসারী, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দ্বীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মোঃ মামুনুল হক, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ওসমান গণী ছালেহী, ঢাকা শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মাওলানা মোঃ মোরশেদ আলম ছালেহীসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম।
মাহফিলের শেষ দিনে আখেরী মুনাজাতের পূর্বেই পুরো মাঠ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। মুনাজাতে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা আবেগঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।

