নারায়নগঞ্জে শ্যালিকার সাথে পরকীয়ার জেরে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন গ্রেফতার-০১
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়নগঞ্জে শ্যালিকার সাথে পরকীয়ার জেরে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন পূর্বক হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত মূল আসামী গ্রেফতার করেছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা। আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসালী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। গত ০৭/১১/২০২৩ ইং তারিখ বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন কাঠেরপুল কুতুবআইল এলাকায় জনৈক আনিসুর রহমানের টিন শেড বাড়িতে ডিসিস্ট সুমা আক্তার (৩০)কে অজ্ঞাতনামা আসামিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে রাখে। সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনার স্থলে এসে ডিসিষ্টের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত পূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জের মর্গে প্রেরণ করেন।
এই ঘটনায় ডিজিস্ট এর মাতা মোছাঃসাজেদা খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে অভিযোগ দায়ের করলে ফতুল্লা থানার মামলা নং- ১৬ তাং- ০৮/১১/২০২৩ ইং ধারা- ৩০২/৩৪ রুজু করা হয়। প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেেব ডিসিষ্টের ছোট বোন সোহানা (২৮) কে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে আগস্ট মাসে মামলাটি পিবিআই তে হস্তান্তর করা হলে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে অত্র মামলার গ্রেপ্তারকৃত সন্দিগ্ধ জামিনে থাকা আসামি ডিসিস্টের আপন ছোট বোন সোহানা আক্তার (২৮) এর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মামলার আই ও কর্তৃক বিজ্ঞ আদালতে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪/০৯/২০২৫ ইং তারিখে সোহানা আক্তার (২৮) উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দির প্রেক্ষিতে ২৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখ রাত্রি ০২:৩০ ঘটিকায় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ভিক্টিমের স্বামী মো: শহীদুল্লাহ (৩৮) কে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে ফতুল্লা থানা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামী মো: শহীদুল্লাহ (৩৮) কে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।আসামী মো: শহীদুল্লাহ তার শ্যালীকার সাথে পরকিয়ার জেরে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক তার স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন মর্মে স্বীকার করেন।আসামী মো: শহিদুল্লাহকে অদ্য ২৫/০৯/২৫ দুপুর ১৪:০০ ঘটিকায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে আসামি তার স্ত্রীকে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।আসামীকে বিজ্ঞ আদালত জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

