সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিষয়ে জনসচেতনতা মূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব, সাতক্ষীরা:
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)ও লিগ্যাল এইড সাতক্ষীরা আয়োজনে লিগ্যাল এইড কর্মসূচি বিষয়ে জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় শনিবার সকাল ১১ টার দিকে সাতক্ষীরা জেলার মোজাফ্ফর গার্ডেন অডিটরিয়ামে। আয়োজনে এই সভায় বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা লিগাল এইড কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণব কুমার হুই এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গৌতম মল্লিক,লিগাল এইড সিনিয়র জজ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিন চৌধুরী, সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব, এডভোকেট আসাদুজ্জামান দীলু ও এডভোকেট মনিরউদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা, সিভিল সোস্যাইটির সদস্যরা এবং সরকারি কর্মকর্তারাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভার সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন শিল্পী শর্মা, প্রজেক্ট ম্যানেজার, আইন ও সালিশ কেন্দ্র(আসক)। প্রকল্প বিষয়ে তথ্য দেন জনাব নুরুল কবির, প্রতিনিধি টেরে দেশ হোমস, নেদারল্যান্ডস। লীগাল এইড কার্যক্রম সার্বিক সহযোগিতায় সুফাসেফ এই প্রকল্পটি শিশুদের যৌন শোষণ সমস্যাটি মোকাবেলা করার লক্ষ্যে কিশোর এবং যুবকদের সক্রিয়ভাবে জড়িত করা এবং ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রকল্পটির দুইটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা সাতক্ষীরা ও গাজীপুরকে নিয়ে কাজ করছে। যেখানে শিশু যৌন শাসন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি জাতীয় আইন সহায়তা এবং মানবাধিকার সংস্থা। উপমহাদেশের প্রথম নারী ব্যারিষ্টার সালমা সোবাহানের নেতৃত্বে ১৯৮৬ সাল থেকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-র যাত্রা শুরু হয়। মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে। যার লক্ষ্য হলো সচেতনতা তৈরি করা, আইন ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করা, রাষ্ট্রের আইন ও নীতি সংস্কারের প্রচারণা এবং সমর্থন করা। ক্ষমতাহীনদের বিশেষ করে নারী, কর্মজীবী শিশু এবং শ্রমিকদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র সমতা সামাজিক ও লিঙ্গীয় ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের উপর ভিত্তি করে যাচ্ছে । একটি সমাজ তৈরিতে কাজ করা ও শাসন প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নেদারল্যান্ডসের টেরে দেশ হোমস প্রতিনিধি নুরুল কবির বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। স্থানীয় পর্যায়ে লিগাল এইড কার্যক্রম শক্তিশালী হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমরা এই উদ্যোগের পাশে থেকে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

সভার সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, জনাব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সকলের সাথে একত্রে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করতে চান। তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শুধু আদালত নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সহিংসতা প্রতিরোধে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। ঘটনা ঘটার আগেই সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী যেন দ্রুত ও যথাযথ আইনি সহায়তা পায়, সে জন্য আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া সচেতনভাবে পরিচালিত হতে হবে।

বক্তৃতায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীন চৌধুরী বলেন, ঘটনার আগে ও পরে উভয় সময়েই কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ভিক্টিমদের যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান সম্ভব হয়। এজন্য অবশ্যই ভিক্টিমের আলামত সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে হবে এবং এ বিষয়ে আগে থেকেই সচেতনতা তৈরি করা উচিত। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস জানান, সমাজের শিশুদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে, যা কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার শিল্পী শর্মা বলেন, আইন সহায়তা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়, এটাই আমাদের লক্ষ্য। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আমরা এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।

সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা থেকে আশা করা হচ্ছে, লিগাল এইড কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছালে প্রান্তিক মানুষ দ্রুত ও সহজে আইনের সুরক্ষা পাবে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা গড়ে উঠবে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টা সমাজে ন্যায় ও মানবিকতার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *