চাঁদপুর-৩ আসনে এমপি প্রার্থী পাঁচ সাংবাদিক

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচ সাংবাদিক। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। যা দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার তুলনায় ব্যতিক্রমী এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজ,রাষ্ট্র ও রাজনীতির নানা অনিয়ম তুলে ধরা এই পাঁচ প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণে যোগ করেছে নতুন মাত্রা ও ভিন্ন বাস্তবতা।

সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা পাঁচ প্রার্থী হলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া,গণঅধিকার পরিষদের মোঃ জাকির হোসেন,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এএইচ এম আহসান উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহজাহান মিয়া আশির দশক থেকে সাংবাদিকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সাবেক জেলা প্রতিনিধি ও বর্তমানে দৈনিক চাঁদপুর দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্বে পালন করছেন।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন তুলনামূলক নতুন হলেও দৈনিক নয়া প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ তুলে ধরতে সক্রিয় রয়েছেন।

ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এএইচ এম আহসান উল্ল্যাহ দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও জনসমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছেন নির্বাচনী মাঠে।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, নাগরিক অধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী লেখালেখির কারণে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা করে আসছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান মূলত শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষিত তরুণ সমাজ ও বঞ্চিত শ্রেণিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, সাংবাদিকতা পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা প্রার্থীরা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন এক ধারা তৈরি করতে পারেন। তাদের ভাষ্য দীর্ঘদিন কলমের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা ব্যক্তিরা সংসদে গেলে আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার প্রশ্নে আরও সোচ্চার ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

সব মিলিয়ে, চাঁদপুর-৩ আসনের নির্বাচন কেবল একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনের লড়াই নয়,বরং এটি হয়ে উঠছে কলম,সত্য ও রাজনীতির শক্তি পরীক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *