আদমদীঘিতে শৈত প্রবাহের ফলে বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
আদমদীঘি প্রতিনিধিঃ
সারা দেশের ন্যায় বগুড়ার আদমদীঘিতে গত কয়েক দিনের শৈত প্রবাহের ফলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গত কয়েকদিন সূর্যের দেখা নেই সেই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ায় আদমদীঘি উপজেলায় মানুষের রোগ বালাই যেমনটা বেড়েছে তেমনি কুয়াশায় রবি শস্যের ক্ষেত ও বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া ও শৈত প্রবাহের কারণে কৃষকরা বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু, সরিষা, গম, ভুট্রা, কাঁচা মরিচ, শাকসবজি চাষসহ এ বছর প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইরি বোরো বীজতলা বপন করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের শৈত্য প্রবাহ ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে রবিশস্য ক্ষতির পাশাপাশি সদ্য রোপনকৃত বীজতলা লালচে হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের বীজতলা রক্ষা করতে কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে বীজতলা গুলো সাদা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এভাবে যদি শৈত প্রবাহ ঘন কুয়াশা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয় তাহলে বীজতলা পুরোটা নষ্টের পাশাপাশি ইরি বোরো চাষ নিয়ে শংকায় পড়বে কৃষকরা। আদমদীঘি উপজেলা সদরের কৃষক জিল্লুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম, হেদায়েতুল ইসলাম উজ্জ্বলসহ অনেক কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে তেমন কোন শীত লক্ষ্য করা যায়নি। তবে গত প্রায় দুই সপ্তাহ হচ্ছে ব্যাপক হারে শৈত প্রবাহ শুরু হয়েছে। এই তীব্র শৈত প্রবাহের কারণে আমাদের ইরি ধানের বীজতলার গাছগুলো লালচে রঙের হয়ে মরে যাচ্ছে। শৈত প্রবাহ দীর্ঘ দিন ধরে থাকলে আমাদের ইরি ধান রোপনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হবে ও আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হব।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ইরি ধানের বীজতলার উপরে পলিথন দিয়ে ঢেকে রাখা সহ নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

