খুলনা-৩ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা: কার কত সম্পদ, কে কত শিক্ষিত

সেখ রাসেল, খুলনা জেলা ব্যুরো চিফ: খুলনা-৩ আসনে ১২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিন জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ফলে বৈধ প্রার্থী নয় জন। ১২ জনের মধ্যে একজন নবম শ্রেণি পাস, দুজন এসএসসি পাস, একজন এইচএসসি পাস, আট জন উচ্চশিক্ষিত। তাদের সাত জন ব্যবসায়ী, চার জন শিক্ষক ও একজন ছাত্র। সবার মধ্যে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের সম্পদ বেশি। তার চেয়ে বেশি সম্পদ আছে স্ত্রীর।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে খুলনার রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন প্রার্থীরা।

হলফনামায় বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল উল্লেখ করেছেন, তিনি এমবিএ পাস। পেশা ব্যবসা। ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকা। নিজের নামে নগদ টাকা আছে ৩৩ হাজার ৮২৮ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ২৪ লাখ তিন হাজার ৮৪৭ টাকা। ব্যাংকে আছে নিজ নামে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৫ টাকা ও স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ১৬৮ টাকা। স্ত্রীর স্বর্ণ আছে ৪০ ভরি, সঞ্চয়পত্র ৪০ লাখ টাকার। উত্তরাধিকার সূত্রে আছে ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৩ টাকা। অকৃষি জমি স্ত্রীর নামে এক কোটি ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৬৫ টাকার, ভবন আছে নিজ নামে ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকার। স্ত্রীর নামে এক কোটি ১০ টাকার।

আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেছেন, বছরে নিজের আয় ১৮ লাখ ৮০ হাজার ১৮৭ টাকা ও সম্পদ ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৮৪১ টাকা। তিনি কর দিয়েছেন দুই লাখ ২৭ হাজার ৫৪৭। স্ত্রীর আয় ১৯ লাখ পাঁচ হাজার ৯৪২ টাকা ও সম্পদ তিন কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৫৩ টাকা। স্ত্রী কর দিয়েছেন সাত লাখ ১৩ হাজার ২১১ টাকা। তবে স্ত্রীর পেশা উল্লেখ করেননি তিনি।

জামায়াতের প্রার্থী মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি এমএসসি পাস। পেশা শিক্ষকতা। ১০টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। তার আয় শিক্ষকতা থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা। অন্যান্য আয় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৩৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদ আছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৭৯০ টাকার। যানবাহন রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে অকৃষি জমি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৮ টাকার। আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়, আয় ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯০১ টাকা ও সম্পদ ৪৫ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ টাকা। কর দিয়েছেন ৪ হাজার টাকা।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবদুল আউয়ালের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি কামিল পাস। পেশা শিক্ষকতা। ফৌজদারি কোনও মামলায় সাজা হয়নি। শিক্ষকতা থেকে আয় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর সম্মানি থেকে আয় আছে ৭৮ লাখ ৫০০ টাকা। হাতে নগদ আছে ২৪ লাখ ২২ হাজার ৫৫৪ টাকা। অকৃষি জমি আছে দশমিক ০৩৭৫ একর। মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৫২৫ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৫০০ টাকা। সম্পদ আছে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকার।

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রার্থী শেখ আরমান হোসেনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তিনি স্নাতক পাস এবং ছাত্র। তার ইলেকট্রনিক সম্পদ আছে ৫০ হাজার টাকার। আয়কর রিটার্নে দেখানো আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও সম্পদ রয়েছে ৭২ হাজার ৬০০ টাকার।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন হলফনামায় লিখেছেন, তিনি এসএসসি পাস, ব্যবসায়ী। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি। তার আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ আছে ৯০ হাজার টাকা। ভবনের মূল্য ৬০ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে আয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও সম্পদ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এফ এম হারুন অর রশীদের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তিনি এমএএমএড পাশ। শিক্ষকতা করেন। আয় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫৪ লাখ ২ হাজার ৪১৩ টাকা। স্থাবর সম্পদ অকৃষি জমি নিজ ৪ দশমিক ৫০ শতক ও স্ত্রীর ৩৮ শতক, বাড়ি নিজ ১০ শতক ও স্ত্রীর ৪ শতক। রিটার্নে আয় নিজ ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ২১৪ টাকা ও সম্পদ ১৩ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর আয় ৩ লাখ ও সম্পদ ৪২ লাখ টাকা।

গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের প্রার্থী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের জনার্দন দত্তের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তিনি এমএসসি পাস। পেশা ব্যবসা। তার আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও সম্পদ ৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তিনি এসএসসি পাস এবং ব্যবসায়ী। আয় ৭ লাক ৯৬ হাজার ২৪৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদে আছে নগদ ৮৩ লাখ টাকা, ব্যাংকে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও যানবাহন রয়েছে ৪৭ লাখ টাকার এবং স্বর্ণ আছে ২০ ভরি। স্থাবর সম্পদ আছে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৬১ টাকার। আয়কর রিটার্নে আয় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৪৪ টাকা ও সম্পদ ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৯৪ টাকা। কর দিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন মোহাম্মদ মায়াজের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, তিনি নবম শ্রেণি পাস। ব্যবসায়ী। আয় ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৬ লাখ ৩১ হাজার ১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ১২ হাজার ৯১২ টাকা, বীমা ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৩১ টাকা, যানবাহন ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকার ও স্বর্ণ ৩০ ভরি। স্থাবর সম্পদ দানপত্রে ১৫৬০ স্কয়ার বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট। আয়কর রিটার্নে আয় ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা ও সম্পদ ৮১ লাখ ১২ হাজার ৮৭৬ টাকা। কর দিয়েছেন ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪ টাকা।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া তিন জন

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্লা হলফনামায় বলেছেন, তিনি এমএ পাস। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি। তার নগদ রয়েছে ৫০ লাখ টাকা। স্ত্রী আছে ৩০ হাজার টাকা। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সূচক তালিকায় গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত সিদ্দিক হলফনামায় বলেছেন, তিনি বি কম পাস। ব্যবসায়ী। তার আয় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র আছে ১০ লাখ টাকা। আয়কর রিটার্নে আয় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও সম্পদ ৬০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। কর দিয়েছেন ৭৯ হাজার ৫০২ টাকা। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সূচক তালিকায় গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আরিফুর রহমান মিঠু হলফনামা বলেছেন, তিনি এইচএসসি পাস। ব্যবসায়ী। আয় ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৩ লাখ টাকার। ২টি ব্যাংকে ৩টি লোনে আছে। এতে তার ঋণের পরিমাণ ১৭ কোটি টাকা। বিপরীতে খেলাপি ঋণ হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা। যা পুনঃতফসিল হয়েছে। আয়কর রিটার্নে তার আয় ৬৩ লাখ টাকা ও সম্পদ ৯৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন সূচক তালিকায় গরমিল থাকা ও সিবিআই রিপোর্ট অনুযায়ী ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *