পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে জরিমানা করবে পুলিশ, পুলিশ করলে কী হবে
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী এনে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে ‘পাবলিক প্লেসে’ ধূমপানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি জরিমানার অঙ্ক বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে যেখানে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য ৩০০ টাকা জরিমানা ছিল, নতুন আইনে তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকায় তামাকজাত পণ্য বিক্রি করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি/২৬) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টা পরিষদের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আইন বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ জরিমানা আদায়ের দায়িত্ব পালন করবে।
এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব স্পষ্ট করেন, পাবলিক প্লেসে কোনো পুলিশ সদস্য ধূমপান করলেও তার বিরুদ্ধে একই আইন কার্যকর হবে। তিনি বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। যিনি আইন প্রয়োগ করবেন এবং যিনি আইন ভাঙবেন—উভয়ের ক্ষেত্রেই একই বিধান প্রযোজ্য।”
৩০ ডিসেম্বর জারি করা গেজেট প্রসঙ্গে শফিকুল আলম জানান, বাংলাদেশে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর সরকারি হিসাবে এক লাখ তিন হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, “তামাক একটি মেজর কিলার। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অধ্যাদেশ একটি ঐতিহাসিক অর্জন।”
নতুন আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করে ই-সিগারেট, ইএনডিএস, এইচটিপি, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান সব নিকোটিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন তামাকজাত পণ্য গেজেটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যাকেটের ৭৫ শতাংশজুড়ে রঙিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ।
জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি, লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধানসহ আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই সংশোধিত আইন কার্যকর হলে দেশে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় অগ্রগতি অর্জিত হবে।

