বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার ছুটি ঘোষণা
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: বিএনপির চেয়ারপারসন, আপোষহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিত তিন বারের সাবেক প্রধানমস্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে আজ সকাল ১০ টার দিকে ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তার জন্ম। তার বাবা ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে দেশভাগের পর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে আসেন। তাদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।
মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন সরকার। পাশাপাশি আগামীকাল সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদ পরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশিদ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক চর্চায় ও ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একজন উজ্জল ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অবদান ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বেগম জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো সংসদীয় নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।
৪৪ বছর আগে রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে খালেদা জিয়া অবস্থান করছিলেন ঢাকা সেনানিবাসে। সেসময় বিএনপি ছিল বিপর্যস্ত। দলের নেতৃত্ব কে নেবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা দিয়ে দ্রুতই দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৩, ২০০৯ এবং ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি আরো তিনবার চেয়ারপারসন হন।

