উৎসব, বন্ধন ও ভালোবাসার একদিন নাটোর প্রেসক্লাব ফ্যামেলি ডে ২০২৫

আব্দুল মজিদ, নাটোর :
সাংবাদিকতার জীবন মানেই নিরন্তর ছুটে চলা। সংবাদ সংগ্রহ, সময়ের চাপ, দায়িত্বের ভার। এই ব্যস্ততার ভিড়ে পরিবারকে সময় দেওয়া যেন অনেক সময়ই হয়ে ওঠে বিলাসিতা। ঠিক এমন বাস্তবতায় একদিনের জন্য হলেও থেমে দাঁড়ানোর, পরিবারকে কাছে টানার সুযোগ এনে দিল নাটোর প্রেসক্লাব।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা ও সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়ানোর মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নাটোর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ফ্যামেলি ডে ২০২৫। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, দিনব্যাপী এই আনন্দঘন আয়োজন বসে গ্রীনভ্যালী পার্ক, লালপুর, নাটোরে। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষের হাসি-আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পার্ক এলাকা।
সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে ভরে যায় আয়োজনস্থল। আগত অতিথিদের জন্য ছিল সুস্বাদু সকালের নাস্তা। এরপর শুরু হয় শিশুদের জন্য নানা খেলাধুলা, বড়দের জন্য বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব আয়োজনটিকে করে তোলে আরও বর্ণিল। দিনভর হাসি, আড্ডা আর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সময় যেন চোখের পলকে কেটে যায়।
মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি হয় এক আন্তরিক পারিবারিক পরিবেশ। এক টেবিলে বসে সহকর্মী, তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠা এই দৃশ্যই যেন বলে দিচ্ছিল, সাংবাদিকতার পরিচয়ের বাইরে সবাই এখানে একজন বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী কিংবা সন্তান।
এই আয়োজনে নাটোর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। একে অপরের পরিবারকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় পেশাগত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে গড়ে ওঠে মানবিক ও পারিবারিক এক বন্ধন। যা এই ফ্যামেলি ডের সবচেয়ে বড় অর্জন।
অনুষ্ঠানটি সফল করতে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহিদুল হক সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ট্যুর কমিটির আহ্বায়ক জাহিদুল হুদা ফরহাদ, সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম, ক্রীড়াবিদ আশরাফুল আলম বাচ্চু এবং আব্দুল মজিদসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা। সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় আয়োজনটি হয়ে ওঠে সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয়।
এছাড়া আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য গ্রীনভ্যালী পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং লালপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মী মোত্তালেব রায়হানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
বিকেলে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে আনন্দঘন এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। তবে দিনশেষে সবার মনেই থেকে যায় একটিই অনুভূতি, এটি শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং সাংবাদিকদের পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
অংশগ্রহণকারীদের মতে, এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত হলে পেশাগত চাপের মাঝেও মানবিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *