আই হ্যাভ দা প্ল্যান কি সাকসেস হতে যাচ্ছে? শেষ মূহুর্তে এসে কি তাহলে জামায়াত জোটে থাকছে না চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল! এমনই প্রশ্ন জনমনে।
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: তারেক রহমানের আই হ্যাভ দা প্ল্যান কি সাকসেস হতে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে এসে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতায় পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ ৮দল, অপরদিকে এনসিপিও জোট হতে পারে, কি করবে জাময়াত। সকলের দাবি পূরণ কি করতে পারবে জামাায়াত।
সংশ্লিষ্ট লিয়াজোঁ কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করেও একক প্রার্থী নির্বাচনে কোনো সমাধানে আসতে পারেনি। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এই জটিলতা দেখা দিয়ছে বলে জানা গেছে। এমনকি চাহিদা মতো আসন না পেলে এই সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আলাদা প্লাটফর্ম করার আভাস দিয়েছে এই দুটি দল। এ ধরণের উদ্যোগের পেছনে বিশেষ কোন মহলের আশ্বাস থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে আসন সমঝোতা নিয়ে আট দলের জটিলতার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এনসিপি। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে তাদেরও অন্তত অর্ধশত আসনের প্রত্যাশা রয়েছে। সমঝোতা হলে তাদের জন্য সবাইকে আরো ছাড় দিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু দল আসন সমঝোতার জন্য যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে জামায়াত সংশ্লিষ্ট এই নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে।
যদি সকলের দাবি পূরণ করে ক্ষমতায় যেতে হয় তাহলে জামায়াতে হাতে থাকবে ৭০/৮০ টি সিট। বুঝাতে পারবে কি তার দলের নেতা কর্মীদের। না কি অবশেষে হাল ছেড়ে দিতে হবে।
সূত্রমতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভলেপমেন্ট পার্টি। ইসলামী দলগুলোর ভোট একবক্সে নিয়ে সরকার গঠনেরও টার্গেটে এগোতে চায় তারা। তবে শেষ মুহূর্তে এসে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতায় সেই উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চাহিদা মতো আসন সমঝোতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদের চাহিদা পূরণ করলে জামায়াতের আসন অনেক কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পেলে এই প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে বিকল্প সিদ্ধান্ত এবং আলাদা প্লাটফর্ম করারও চিন্তা রয়েছে কয়েকটি দলের।
তবে আট দলের আসন সমঝোতার বিষয়টি ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। আট দলের সবাই ছাড় দিবে, সবাই মিলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে যাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করছে। আর মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চাওয়া কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ আসন। খেলাফত মজলিসের অপরাংশও বেশ সংখ্যক আসন চাইছে। এসব দলের চাহিদা পূরণ করে জামায়াতের আসন সংখ্যা অনেক কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচন করতে চায়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে বেশ জটিলতা বিরাজ করছে। অপরদিকে এনসিপির দাবি ৫০ টিরও বেশি।
এমনই আভাস দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের একজন সহকারী মহাসচিব জানান, তারা ১২০টি আসনে সমঝোতা করতে চেয়েছেন। এরমধ্যে শতাধিক আসন লাগবেই। তবে এনসিপি যুক্ত হলে জুলাই যোদ্ধাদের দল হিসেবে কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি, খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত আন্দোলনকে ৪ থেকে ৫টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ২ থেকে ৩টি, জাগপা একটি এবং বিডিপিকে দুটি আসন দিলেই হয়। সেক্ষেত্রে জামায়াত দেড়শ আসন নিলে সমস্যা হবে না। আর তারা যদি ১৮০ থেকে ১৯০ আসনে অনড় থাকে তাহলে হিসাব ভিন্ন দিকে যেতে পারে।
বিএনপি বা অন্য কোন মহলের প্রস্তাব বা চাপ আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে দেওয়া হয়েছিল, এখন কোন প্রস্তাব পাইনি। অন্য কোন দলও এই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছে বলে মনে হয় না। তবে এ নিয়ে কিছু গুজব আবার কিছু উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।

