জামায়াতসহ ৮ দলীয় জোটে-এনসিপি কি চূড়ান্তরূপে জোট হতে যাচ্ছে, নাকি বিএনপির সাথে
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটবদ্ধভাবে ভাবে নির্বাচন করবে-এমনটিই মনে হচ্ছে। জোট কার সঙ্গে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নাকি জামায়াতে ইসলামীর সাথে? তবে জামায়াতের এনসিপির মধ্যে জোট হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অপরদিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন, তাকের রহমান। তিনি সমাবেশে বলেছেন, আই হ্যাভ দা প্ল্যান। আসলে প্ল্যানটা কি অনেকে অনেক ভাবেই ভাবছেন।
জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি কেমন হবে-তা নিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যাহত রয়েছে। তবে এনসিপি নেতারা বলছেন, জোট নিয়ে টানা বৈঠক চলছে। ৫০ টির অধিক আসন চাচ্ছে এনসিপি। কিন্তু জামায়াত নেতারা বলছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে-জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। যেখানে এনসিপির নেতারা হাতে গোনা কয়েকটি সিটের অধিকারী, সেখানে ৫০ টির অধিক আসন দাবি করা মানে অন্যকোন দলের সাথে জোটের সম্ভবনায় এমন দাবি। এনসিপির নেতাদের মুখ থেকে বলা জুলাই/২৪ আন্দোলনে জামায়ত সবথেকে বেশি সাহায্য করেছে, সেখানে বিএনপি‘র উর্ধ্বতন নেতারা বলেই দিছিলেন তারা শেখা হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর কথা ভাবছেনা। তাহলে অবশেষে এমন একটি দাবি এনে কি অন্যদের সাথে মিত্রতা করার কথা ভাবছেন। কেননা জনমূখে একটি কথা প্রায় শুনা যাচ্ছে, আবারও হতে পারে পাতানো নির্বাচন, সেদিক বিবেচনা করে এনসিপি জামায়ত জোট থেকে সরেও যেতে পারে, এখন তাদের প্রয়োজন সংসদীয় আসন। আর তাছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে অধিকাংশই একটি বড় দলের মনোনিত ব্যক্তিরা।
এ প্রসঙ্গে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা-বৈঠক হচ্ছে। তবে অনেক বোঝাপড়া রয়েছে, আসন থেকে শুরু করে দলীয় বিষয়গুলোও উঠে আসছে। তবে জোট কতটুকু এগোচ্ছে, জোটের ঘোষণা কখন হবে, এ বিষয়টি এখনো বলা যাচ্ছে না। চূড়ান্ত ঘোষণা এলে আনুষ্ঠানিকভাবে আসবে। আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের আলোচনা-বৈঠক চলমান রয়েছে। জোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে আলাদা মার্কা নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ জোট অন্যান্য জোটের মতো নয়, দল এবং প্রতীক বিচ্ছিন্ন করে আমরা জোট করছি না। জোট হবে-আমাদের প্রতীক নিয়ে আমরাই নির্বাচন করব। এ জোট হবে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে। জোট গঠনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখানে আসন ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা-বৈঠক চলছে। ৫০-এর অধিক আসন নিয়ে কথাবার্তা চলছে।
জামায়াত সূত্র জানায়, দলটি দুই শতাধিক আসনে সরাসরি দলীয় প্রার্থী দেবে। জোট চূড়ান্ত হলে এনসিপি, এবি পার্টি অন্যান্য ইসলামী দলসহ মিত্রদের জন্য ৮০টি আসন ছেড়ে দেবে। বুধবার বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে সমঝোতায় আসন ছেড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত ও এনসিপির জোট গঠন তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতেই জরুরি ভিত্তিতে এ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে আলোচনা-বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এ নিয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দুই দলের জোট গঠনের ঘোষণাটি প্রকাশ্যে আসবে-এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দু’দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এনসিপিকে ২৭ থেকে ২৮টি আসন ছেড়ে দিতে চায় জামায়াতে ইসলামী। দুই দলেরই ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ খবর দিয়েছে।
এদিকে দুটি দলের মধ্যে জোট হচ্ছে-এমন বার্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল (আজ শুক্রবার) এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে। তার এমন পোস্টের পর এনসিপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ভিন্ন দিকেও যেতে পারে, কেননা এনসিপির এখন টিকে থাকার লড়াই, ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই। এরই মধ্যে জনাব তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তণ করেছেন। তাহলে কি বিএনপির সাথেই জোটে যাবে। কিন্তু বিএনপি ইতি মধ্যে ২৫০ অধিক সিট ঘোষনা দিয়েছেন।
তবে বৃহস্পতিবার বিকালে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের প্রধান মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘তার (আবদুল কাদের) বক্তব্যের বিষয়টি একান্ত তারই। তবে আমরা তো বলছি, জোট গঠনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক চলছে, আলোচনা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলেই সবাই জানতে পারবে।’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বেশ কয়েক মাস ধরেই বলে আসছিলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। সেই লক্ষ্যেই প্রথমপর্বে ১২৫ টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়। দ্বিতীয়পর্বে বাকি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত করে দলটি। অপর দিকে চলতি বছরের ২৮ অক্টোবর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছিলেন, জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারেন তারা। তবে নাহিদ ইসলাম এও বলেছিলেন, ‘সমঝোতা বা জোট রাজনৈতিক বা আদর্শগত জায়গা থেকে হতে পারে।
গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মতের মিল দেখা যাচ্ছিল। ফলে তাদের রাজনৈতিক জোট হিসেবেও মনে করা হচ্ছিল। জুলাই সনদে সই করা না করা নিয়ে দ্বন্ধের সৃষ্টি ধরা যায়। এনসিপির কিছু নেতারাও সেকুলারিজমের দিকে ধাবিত। জামায়াত ইসলামী পতাকা তলে আহব্বান করে, জোট কি জামায়াত না বিএনপির সাথে।

