১৫ ডিসেম্বর পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

এম. ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের এই দিনে দিনাজপুরের পার্বতীপুর হানাদার মুক্ত হয়ে ছিল।

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভোর থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলায় পাকসেনারা বিশেষ ট্রেনে পার্বতীপুর ত্যাগ করে সৈয়দপুরের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। অনেকেই ট্রেনে স্থান না পেয়ে রেললাইন ধরে দল বেঁধে রওয়ানা হয়। সেই মুহূর্ত থেকে এই হানাদারমুক্ত হয় পার্বতীপুর। রাত ১২টার পর মুক্তিযোদ্ধসহ মুক্তিকামী হাজার হাজার মানুষ পার্বতীপুর শহরে প্রবেশ করতে থাকে। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের পর সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। ২৩ মার্চ এ শহরে অবাঙ্গালিদের বৈষম্যমূলক আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে পার্বতীপুরের গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ শহর ঘেরাও করে সিদ্দিক মহল্লায় অগ্নিসংযোগ করে। ২৪ ও ২৫ মার্চ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী ইমাম মোল্লাসহ ১১ জনসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যকে কয়লার ব্রয়লারে জীবন্ত নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে হত্যা করে।

২৯ মার্চ শহরের পুরাতন বাজারের উপেন চন্দ্রশীল ও সুভাষ চন্দ্র শীলসহ ১৪ জনকে নির্মমমভাবে হত্যাকরে মরদেহ বাড়ির একটি কুয়ার মধ্যে ফেলে দেয়। ২ এপ্রিল পাকসেনা ও অবাঙ্গালিরা হিংস্রতায় পার্বতীপুরের ৫ বর্গ কিলোমিটার জনপদে অগ্নিসংযোগ, লুট,হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালায়। ৮ এপ্রিল সবচেয়ে বৃহৎ গণহত্যার ঘটনা ঘটায় পাকসেনারা। রংপুর থেকে পাকসেনারা ট্রেনে করে এসে পার্বতীপুর শহরের বিকেল ৩টায় দিকে শিশুসহ প্রায় ৩শ’ নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে।

জুলাইয়ের প্রথম দিকে ফুলবাড়ী ভেরম নামক স্থানে ‘বেস’ ক্যাম্প স্থাপন করেন। ‘বেস ক্যাম্প’ স্থাপনের ৫ দিনের মাথায় পাক সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ১৭ জন পাকসেনা মারা যায়। ৭দিন পরে দু’দফা যুদ্ধ বেঁধে যায়। এবারও ৭জন পাক সেনা মারা যায় এবং চিরিরবন্দরের মোজাফ্ফর হোসেন ও খাগড়া বন্দের তাহের নামে দু’জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এদিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের আজিজার রহমান চৌধুরী ও তার ভাই মতিয়ার রহমান একই সঙ্গে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ভবানীপুর শাহগ্রাম রেল ব্রীজটি আক্রমন করে ১৬ জন রাজাকারকে আটক করে এবং ব্রীজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ায় ৭ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

অপদিকে ক্রমান্নয়ে ট্রেনিং শেষে মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় এসে পাকসেনাদের ওপর বিভিন্ন দিকে থেকে আক্রমন চালাতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পার্বতীপুর এলাকা থেকে ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীরা পালিয়ে গেলে পার্বতীপুর শত্রু মুক্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *