১/ চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর স্বজনের ভিড়ে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর তুলনায় রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে করে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালকর্মীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রকৃত রোগীরাও।

গত শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বেডের আশপাশে একাধিক স্বজন অবস্থান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে বেডের নিচে ও মেঝেতেও স্বজনদের বসে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও খাবার গ্রহণ, শিশুকে কোলে নিয়ে শুয়ে থাকা এবং ব্যক্তিগত মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার দৃশ্য চোখে পড়ে। এতে করে ওয়ার্ডের ভেতরে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবায় বিলম্ব ঘটছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রোগীর পাশে একাধিক স্বজন অবস্থান করায় নার্সদের ইনজেকশন দেওয়া, স্যালাইন পরিবর্তন, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় স্বজনদের ভিড় ঠেলে রোগীর কাছে পৌঁছাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কর্তব্যরত নার্সরা।

এ বিষয়ে ২ য় তলার ইনচার্জ মারিয়া, ৩য় তলার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ কোহিনুর বলেন, স্বজনদের অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত স্থানান্তর বা চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা বলেন, হাসপাতালে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একজন রোগীর সঙ্গে একজন স্বজন থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সেবার ঘাটতির কারণে রোগীর পাশে একাধিক স্বজন থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এ বিষয় হাসপাতলে আইন শৃঙ্খলা দায়িত্বে থাকা নায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, সবাই একটু সচেতন হলে শৃঙ্খলা রক্ষা ও হাসপাতালের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রোগী প্রতি ১ জন স্বজন থাকলে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ম মেনে চলতে বারবার মাইকিং ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও জানান তারা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতাল প্রশাসন ও রোগীর স্বজনদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। নিয়ম মেনে চললে যেমন চিকিৎসাসেবার মান বাড়বে, তেমনি প্রকৃত রোগীর ভোগান্তিও কমবে।

২/
চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নৌ পুলিশের বিশেষ অভিযান
২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার

মোঃ জাবেদ হোসেনঃ চাঁদপুর নৌ থানার তৎপরতায় নৌপথে মাদক পাচার রোধে আরও এক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চাঁদপুর নৌ থানা ইন্সপেক্টর এ.কে.এম.এস ইকবালের নির্দেশনায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নৌ থানা সূত্রে জানা যায়, এসআই (নি:) আবুল হাশেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ টিম দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে লঞ্চঘাট এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা এক যুবককে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে পলিথিনে মোড়ানো ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে অংশ নেন এএসআই (নি:) হুমায়ুন কবির, এএসআই (নি:) পাইলট ভৌমিকসহ চাঁদপুর নৌ থানার সঙ্গীয় ফোর্স। উদ্ধারকৃত গাঁজা জব্দ করে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ শিপন হোসেন (২৫)। তার পিতার নাম নুর আলম ও মাতার নাম রৌশন আক্তার। সে লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর থানার টুমচর এলাকার বাসিন্দা। তার স্থায়ী ঠিকানা টুমচর (শিমুলতলা সংলগ্ন হায়দার আলী মুন্সিবাড়ি), ওয়ার্ড নং–০৫। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারণা করছে, গ্রেফতারকৃত আসামি নৌপথ ব্যবহার করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

চাঁদপুর নৌ থানা সূত্র আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ও প্রকৃতি বিবেচনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
চাঁদপুর নৌ থানা ইন্সপেক্টর এ.কে.এম.এস ইকবাল বলেন,নৌপথ ব্যবহার করে কোনো ধরনের মাদক পাচার কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। নৌ থানা পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

এদিকে স্থানীয়রা নৌ পুলিশের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, লঞ্চঘাট ও নৌপথে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কমাতে নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর নৌ পুলিশের এমন সক্রিয় ভূমিকা নৌপথকে নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *