খুলনা-১, আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত নতুন প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী দাকোপ-বটিয়াঘাটা নেতা কর্মীদের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময়
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একজন হিন্দু ব্যাক্তিকে নমীনি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকাল ৩ টায় দাকোপ বটিয়াঘাটার জামায়াত ইসলামের সকল নেতা কর্মীদের সাথে পরিচয় ও মত বিনিময় করেন।
বাবু কৃষ্ণ নন্দী ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের নন্দী বাড়ীর গর্বিত সন্তান। তার পিতা মৃত কালিপদ নন্দী একজন মুসলীম লীগের নেতা ও মাতা মৃত প্রমিলা নন্দী। ৪ ভাই ৪ বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ পুত্র কৃষ্ণ নন্দী। তার ২টি পুত্র সন্তান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আমির মাওলানা ইমরান হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, খুলনা-১ আসনের নির্বাচনী পরিচালক ও এর পূর্বে মনোনিত নমীনি/প্রার্থী মাওলানা শেখ আবু ইউসুফ, সদস্য সচিব মাওলানা হুমায়ুন কবির, খুলনা জেলা শ্রমীক কল্যান ফাউন্ডেশন সহকারী সদস্য সচিব আল আমিন গোলদার, দাকোপ থানা আমির মাওলানা মুক্তার হুসাইন, হরিণটানা থানা আমির আব্দুল গফুর, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আশরাফ আলী, উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল হাই বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের সভাপতি ও সাংবাদিক, অত্র পত্রিকার দপ্তর সম্পাদক সেখ রাসেল সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স প্রিন্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। আনুষ্ঠানিক ভাবে তার নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণার সূচনা করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি দলীয় নেতা–কর্মী ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামছেন।
প্রধান অতিথি তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে জামায়াতে ইসলাম সকল ধর্মের বর্নের মানুষের অধিকার, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার রোল মডেল। তারই প্রমাণ মেলে দাকোপ বটিয়াঘাটার নমীনি মাওঃ মোঃ আবু ইউসুফ। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই এখন নির্বাচন পরিচালক। অপরদিকে সুনামগঞ্জ আরো একটি দৃষ্টান্ত। আমরা যে হিন্দু মুসলিম তথা অন্যান্য ধর্মালম্বীদের ভেদাভেদ ভুলে এদেশকে সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি।
হিন্দু ব্যক্তি হিসেবে জামায়াত আপনাকে খুলনা-১ আসন কেন দিলো, হিন্দু ভোটার বেশি, না কি আপনার ডুমুরিয়া এলাকায় চেক্রেটারী জেনারেল আসে সে কারণে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাকোপ বটিয়াঘাটায় বর্তমানে হিন্দু মুসলিম প্রায় সমান সমান। আমি এখানে এসেছি হিন্দু মুসলিম সকলের অধিকার ও সুখ দুঃখের সাথি হওয়ার জন্য। এখান থেকে জনগণ আমাকে এমপি নির্বাচিত করবে এমন কিছু নির্ভরযোগ্য সাড়া পেয়েছি। তাছাড়া মাওঃ শেখ আবু ইউসুফ সাহেব আমার পাশে সার্বক্ষনিক আছেন, থাকবেন। এখান থেকে নির্বাচিত হয়ে দাকোপ বটিয়াঘাটা উন্নত রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। মোঃ আবু ইউসুফ ভাইয়ের দেওয়া ওয়াদা/প্রতিশ্রুতি আমি পরিপূর্ণভাবে পূরণ করার চেষ্টা করবো। খুলনা-৫ আসনের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে মিয়া গোলাম পরোয়ার একটি ভালো বাসার নাম। তেমনি আমিও খুলনা-১ আসনের প্রতিটি মানুষের অন্তরে অন্তরে জায়গা করে নিতে চাই।
⭐ মাওঃ মোঃ আবু ইউসুফের নিকট তাকে বাদ দিয়ে কৃষ্ণ নন্দীকে নমীনি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অবস্থান স্পষ্ট। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই— আমাদের সংগ্রাম ব্যক্তিগত পদ, নাম বা মনোনয়ন নিয়ে নয়, আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়, ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা, ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা। সংগঠনের সিদ্ধান্তই আমাদের মাথার ওপর, আর ইসলামী চেতনা ও আনুগত্যই আমাদের পথপ্রদর্শক, সুতরাং, সম্পূর্ণ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ থেকে আমি এই সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করছি এবং মেনে নিয়েছি। ⭐ যারা প্রশ্ন তুলছেন—তাদের উদ্দেশে, জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে থাকে না, এ দল আদর্শের দল, ন্যায়ের দল, সাহসী সংগ্রামের দল, ব্যক্তি বদলাতে পারে, নাম বদলাতে পারে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য, আদর্শ ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি কখনো বদলায় না। ⭐ এখন আমাদের করণীয়, এখন আমাদের একটাই দায়িত্ব: সবাই একসাথে, একই লক্ষ্য নিয়ে, দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে, নতুন প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দীকে স্বাগত জানানো এবং দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করা। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে—ইনশাআল্লাহ খুলনা–১ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে নিশ্চিত। ⭐ শেষে একটাই কথা—আমরা ব্যক্তির জন্য নয়—আদর্শের জন্য কাজ করি, এবং সেই আদর্শের পথে আমি আগের মতোই অটল আছি।
হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনটি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বহু স্তরে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আমির এজাজ খান। ফলে বিএনপি প্রার্থী এজাজ খান ও জামায়াত মনোনীত কৃষ্ণ নন্দী। এর আগে এই আসনে জামায়াত মাওলানা আবু ইউসুফকে মনোনয়ন দিলেও পরে দলীয় সিদ্ধান্ত বিবেচনায় পরিবর্তন এনে কৃষ্ণ নন্দীকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। মনোনয়ন পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।
সব মিলিয়ে খুলনা-১ আসন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কর্মী–সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি, প্রচার–প্রচারণার প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক মাঠের গণনার ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে, কার দিকে যাবে বিজয়ের পাল্লা। বাবু কৃষ্ণ নন্দী বলেন আমি হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সম্প্রীতির দাকোপ বটিয়াঘাটা গড়তে চাই।

