আজ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ অভিভাকদের উদ্বেগ

সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: তিন দফা দাবি আদায়ে সারাদেশে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। ঘোষণা অনুযায়ী, আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

শিক্ষক নেতারা জানায়, অর্থমন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ২২ দিন অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে আগামীকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “কমপ্লিট শাটডাউন” বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তিন দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার পরীক্ষা বর্জন এবং বিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে। তারা বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়া হলে একঘণ্টার মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিতে তারা প্রস্তুত। তবে দাবি আদায় ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন বন্ধ করা হবে না।

’প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর তিন দফা দাবি হলো: ১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ,
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান, ৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

তবে অধিকাংশ অভিভাবকরা জানিয়েছে, হয় শিক্ষদের ৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে শিক্ষকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দিতে, নয়তো তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করে নতুন নিয়োগ দান করে শর্তসাপেক্ষে সঠিকভাবে যোগদান দিতে, কমল মতি শিশুদের ভবিষ্যতে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে। অভিভাবকরা প্রায়ই খেয়াল করেন, শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন না করার কারণে ছোট সোনামনিদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুখাপেক্ষী হতে হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষকদের প্রতি খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমন আইন করতে যাতে কোন শিক্ষক তাদের দায়িত্ব ফেলে রেখে এভাবে আর আন্দোলন করতে না পারে, করলে সঙ্গে সঙ্গে চাকুরীচ্যুত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *