রাজশাহীতে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া সাংবাদিকদের ‘তালা মেরে’ আটকে রাখার হুমকি
সেখ রাসেল, দপ্তর সম্পাদক: রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হুমকি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ঘরে তালা মেরে আটকে রাখার হুমকির অভিযোগ উঠেছে দলটির দুই নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী পর্যটন মোটেলের একটি কক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয় সাইফুল ইসলামকে। এরপর থেকেই কিছু এনসিপি নেতা-কর্মী সাইফুল ইসলামকে আওয়ামী দোসর বলে অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসছিলেন। এ অবস্থার মধ্যে সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে এনসিপির রাজশাহী জেলার নবগঠিত কমিটি পর্যটন মোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে সোয়েব আহমেদসহ কয়েকজন উত্তেজিত অবস্থায় কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তারা দ্রুত লাইভ সম্প্রচার বন্ধ, ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম গুছিয়ে কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দিতে থাকেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সুয়াইব আহমেদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই সাংবাদিক যাঁরা আছেন, এটা যদি বন্ধ না করেন, আপনাদেরসহ আমরা তালা মেরে দেব এবং আগুন ধরিয়ে দিবো। তারা কক্ষ তালাবদ্ধ ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানান। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বেগতিক হলে সাইফুল ইসলামের সমর্থকেরা সাংবাদিকদের পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং হুমকি দেওয়া এনসিপি নেতা-কর্মীদের মোটেল থেকে বের করে দেন। এরপর মোটেলের বাইরে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করে। রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত দুজনের শাস্তির দাবি করেছেন। বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির সব সংবাদ সংগ্রহ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সুয়াইবের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্টের পর নগরের আসাম কলোনিতে দুই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন থামাতে ঢিল মারারও অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকেরা এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী বলেন, ‘বিব্রতকর, দুঃখজনক ও অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। সবই ঘটতে পারে, কিন্তু সব জিনিসের সৌন্দর্য থাকতে হবে। বাচ্চা বাচ্চা ছেলে সব। তারা যুবশক্তি করে। এই কমিটি ঢাকা থেকে করে দিয়েছে।’ সুয়াইবের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকেই কিছু অভিযোগ শুনলাম। বিষয়গুলো কেন্দ্রে জানানো হবে। তাঁরা ব্যবস্থা নিবেন।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজশাহীর আলুপট্টি মোড়ে যুবলীগ কর্মী রুবেলকে দুই হাতে গুলি ছুড়তে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি সেই রুবেলের সঙ্গে সাইফুল ইসলামের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেটা ছিল একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ছবি। যদি কখনো কোনো রাজনৈতিক মিছিল, সাংগঠনিক আলোচনা বা কোনো পদ থাকে, তবেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বলা যাবে। আমার কোনো পদ ছিল না।’
রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা সহ দেশে সকল সাংবাদিকরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জড়িত দুজনের বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, যে দুজন ভেতরে ঢুকে সাংবাদিকদের আপত্তিকর কথা বলেছেন, তারা হলেন– জাতীয় যুবশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শোয়েব আহমেদ ও মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান ফারাবি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রকে বিষয়টি জানিয়েছি।

