লক্ষ লক্ষ জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ৮ দলীয় বিভাগীয় ঐক্য জোটের ৫ দফা দাবির সমাবেশ অনুষ্ঠিত এবং বেগম জিয়ার শারিরিক সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া

সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা: খুলনায় দুপুর ১২ টায় পবিত্র কুরআন তেলায়াতের মধ্য দিয়ে ৮ দলিয় বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হয়। আজ ০১ ডিসেম্বর/২০২৫ তারিখ সোমবার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো: রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ডেভলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান সহ আরও অনেকে।

একসঙ্গে আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামি দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আরও একবার ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন, প্রশাসনিক ক্যু করার চেষ্টা করছেন। চাঁদাবাজি আগের চেয়ে বেড়েছে, দূর্নীতি আগের চেয়ে বেড়েছে। এটি শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, এটা বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ করা না হয় বিপ্লবী জনগণ, তরুণ জনতা, কোলে বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা ওই মায়েরা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন না।
একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারি বেরেছে, আগামী নির্বাচনে ছলে-বলে কৌশলে, কেউ কেউ আমরা শুনতে পাই বিভিন্ন জায়গায় বসে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। জনগণ ভোট দিক আর না দিক ক্ষমতায় আমাদেরকে যেতে হবে। বন্ধুগণ বেলা শেষ, দিনও শেষ। সূর্যও ডুবে গেছে। এ বাংলাদেশে এটা হবে না, এটা আমরা হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, আমার বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায় বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তাবেদারি নয়- স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।’ এ সময় তিনি কোনও ইসলামি দলের গায়ে চাঁদাবাজের তকমা লাগেনি বলে দাবি করেন। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন, বক্তারা আরও বলেন, আমরা আর প্রতারণার ফাঁদে পড়তে চাই না। আগে গণভোট দিতে হবে, তারপর নির্বাচন। পিআর ব্যবস্থা উচ্চ এবং নিম্ন কক্ষে চালু করতে হবে। সরকারের প্রতি আবেদন, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হবে। ৮ দলের ঐক্য ভাঙতে ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু আমরা কোনো ষড়যন্ত্রকে এগোতে দেব না। আগামী সংসদে ইসলামী পতাকা উত্তোলনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা আমাদের করতে হবে।
৫ দাবি আন্দোলন করা ৮ দল হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাবা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুস্তি ও সুস্থতা কামনা করেন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, আওয়ামী সরকারে বিচার দৃশ্যমান করা, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *