পাবনা ঈশ্বরদীতে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির হামলার অভিযোগ, আহত ২৫
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের দাবি-তাদের প্রচারণায় বিএনপি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ- গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে জামায়াত কর্মীদের ধাওয়া দিয়েছে।উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতজনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।দলীয় সূত্র অনুযায়ী, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে জেলা আমির আবু তালেব মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত কয়েক দিন ধরেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই দিন আগে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।স্থানীয়রা জানান, বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল গণসংযোগে গেলে আলহাজ্ব মোড়ে বিএনপি সমর্থকেরা বাধা দেন। সামান্য তর্কাতর্কির পর জামায়াত প্রার্থী সেখান থেকে সরে যান। ফেরার পথে মৃধাপাড়া এলাকায় আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও জামায়াত প্রার্থীর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে।জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ওপর বিএনপি প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়েছে। গুলি করেছে, কমপক্ষে ১৫০ মোটরসাইকেলের বহর লক্ষ্য করে ভাঙচুর করেছে। ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।”গুলিবিদ্ধদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জামায়াতের নারী কর্মীরা গ্রামে ‘বেহেশতর টিকিট’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছিলেন। স্থানীয় নেতারা প্রতিবাদ করলে জামায়াত অস্ত্রসহ লোকবল নিয়ে হামলা চালায়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি, আমাদের এক কর্মীকে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কেউ এখনো অভিযোগ না দিলেও অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

