বালুচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম দালাল চক্রের রাজত্ব অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
সাঈদ হোসেন: মুন্সীগঞ্জ জেলা, সিরাজদিখান উপজেলায় বালুচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মোক্তার হোসেন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নাইব পদে কর্মরত আছেন। ফলে অত্র এলাকায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করেছেন। ভূমি সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ। অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তার শক্তিশালী দালালচক্র তাছাড়া দলিল লিখক এবং সার্ভেয়ার (আমিন) রয়েছে দালাল চক্রে। দশ হাজার টাকার নিচে কোন কাজ করেন না। ক্ষেত্র বুঝে লক্ষাধিক টাকার অধিক নেয়। ভূমি মালিক পরষ্পরকে পরামর্শ দিয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। পরষ্পরের মধ্যে বিতর্ক ঝগড়া-বিভাদ মামলা-মোকদ্দমার সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী উভয়কে জটিলতায় ফেলে সমাধান পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে। এভাবে সে ভুক্তভোগীদেরকে জানিয়ে দেয়। সে উভয় পক্ষের নিকট থেকে বড় অংকের টাকা আদায় করে নেয়। অংশীদারদের মধ্যে জটিলতার সৃষ্টি করে। সমান অংশীদারদের মধ্যে কম-বেশি করে জমি নামজারি করে জটিলতার সৃষ্টি করে, বড় অংকের টাকা আদায় করে। অংশীদার প্রত্যেকে সমান অংশের মালিক। চারজন চার স্থানের কম-বেশি পরিমাণ চারটি জমি আবাদ করে খায় কিন্তু মূল্য তিনগুণ কম-বেশি। সে ক্ষেত্রে পরষ্পরের অনাপত্তি পত্র ছাড়া অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে অংশীদারদের পরষ্পরের অজান্তে নামজারি করে দিয়ে পরষ্পরের মধ্যে বিভাদের সৃষ্টি করে দেয়। পরে আবার টাকা খরচ করে কোন ভুক্তভোগী ঠিক করে নেয় এবং কোন ভুক্তভোগী তা পারে না। এই ভূমি অফিস থেকে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিরোধের সৃষ্টি হয়। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন কাগজপত্র উত্তোলন সংশোধন নামজারি বন্টননামা ডিসিআর শ্রেণী পরিবর্তন মিসকেস ও অন্যান্য যেকোন ধরনের কাজ দশ হাজার টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা নেয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে সে যেকোন ধরনের সমস্যা তুলে ধরে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপন করে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করে এবং টাকার পরিমান চুক্তি করে নেয়। তার ঘুষ দূর্নীতি অনিয়মের কারনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এলাকার সর্বমহল থেকে তার বিরুদ্ধে এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসে। এলাকাবাসী তার নিকট এবং দালাল চক্রের নিকট জিম্মি। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রমাণ পাওয়া গেছে অভিযোগগুলি সত্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক অভিযোগ এর কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। বালুচর চৌরাস্তার নিকট চার শতাংশ জমি নামজারি করতে নেয় বিশ হাজার টাকা সময় লাগে চার মাস। এই চার শতাংশ জমি হেবা দলিল গ্রহীতার নামে নামজারি করতে টাকা নেয় পনেরো হাজার। বালুচর ধলেশ্বরী ব্রিজের পশ্চিম পাশে ঢালে দশ শতাংশ জমি নামজারি করতে বিক্রেতার নিকট থেকে নেয় পঞ্চাশ হাজার টাকা সময় লাগে চার মাস। একই জমি ক্রেতার নামে নামজারি করতে নেয় চল্লিশ হাজার টাকা। খাসনগরের দক্ষিণে ছয় শতাংশ জমি বিক্রেতার নামে নামজারি করতে নেওয়া হয় পয়ত্রিশ হাজার টাকা, সময় লাগে চার মাস, একই পরিমাণ জমি ক্রেতার নামে নামজারি করতে নেয় পয়ত্রিশ হাজার টাকা, সময় লাগে ছয় মাস। খাসমহল
বালুচর দক্ষিণ পাড়া ছয় শতাংশ বাড়ি নামজারি করতে নেওয়া হয় পঁচিশ হাজার টাকা, সময় লাগে পাঁচ মাস এই বাড়িটিই হেবা দলিল গ্রহীতার নিকট থেকে নামজারি করতে নেওয়া হয় আঠারো হাজার টাকা। বালুচর বাজারের দক্ষিণ পাশে আট শতাংশ জমি নামজারি করতে নেওয়া হয় পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা, সময় লাগে নয় মাস। চান্দের চর মৌজা পাইন্নার চর ষোল শতাংশ জমি নামজারি করতে নেওয়া হয় পনেরো হাজার টাকা, সময় লাগে পাঁচ মাস। চান্দের চর বার শতাংশ জমি নামজারি করতে নেওয়া হয় আঠারো হাজার টাকা, সময় লাগে সাড়ে পাঁচ মাস। অনেক রকমের অগণিত অভিযোগ পাওয়া যায় এই ভূমি অফিসে। বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ হবে।

