মৃত্যুদন্ড আদেশ প্রাপ্ত শেখ হাসিনার আপিল করার সুযোগ আছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে আপিল করতে পারবেন, সেই সুযোগ আছে- এমনটাই জানালেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রোটেক্স ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বহুমুখী শিক্ষা, পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেছেন, সব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিচার হয়েছে। আসামিপক্ষ সব সময় বলতে চেষ্টা করবে, বিচার সঠিক হয়নি। তাদের সুযোগ আছে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় কথাটি বলেছেন। রায় কার্যকর করার জন্য সরকারের যে মেকানিজম আছে সেই অনুযায়ী সরকার এগোবে। রায় কার্যকরের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চাইলে মতামত জানানো হবে।
রায় কার্যকরের জন্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জুলাই গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ তাদের বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে তা দেখে পৃথিবীর যে কোনো আদালত বলবে তারা দোষী। শেখ হাসিনা আমার কাছে মুখ্য নয় উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, আমি দেখছি মাত্র ২০ দিনে ১৪শর বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রায় কার্যকরের বিষয়ে সরকারের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই মেকানিজম অনুযায়ীই সরকার এগোবে। কোনো উপদেষ্টার দেওয়া ‘রায় কার্যকর নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে রায় কার্যকরের বিষয়ে আমাদের কাছে সরকার মতামত চাইবে, আমরা জানাবো।”
শেখ হাসিনা আমার কাছে মুখ্য নয় উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, আমি দেখছি মাত্র ২০ দিনে ১৪শর বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই মামলায় যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে, তা দেখে পৃথিবীর যে কোনো আদালত বলবে তারা দোষী। মাত্র ২০ দিনে ১৪শর বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনা আমার কাছে মুখ্য নয়—মানুষ হত্যা করাই এখানে মূল বিষয়।”

