‘জামায়াত পাস কইরা ফেললে বিষ খাইয়্যাম’: ফজলুর রহমান, এটা কি সত্য ঘটবে না আত্মঘাতি মন্তব্য
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হলে এবং দেশে জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে তিনি ‘বিষ খাবেন’। শুক্রবার রাতে ইটনা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, যারা বেঁচে আছেন তা শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দয়া। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার পায়ে ধরতে হয়েছিল। বর্তমানে তারা রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতা ও সমর্থকরা ধান্দাবাজ, চোর-বাটপার এবং মুনাফেক। ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হাত তুলুন দেখি, রাজাকারের পক্ষে হাত তুলুন দেখি। কোনো পক্ষেই হাত তোলেনি কেউ, তবুও তিনি বলেন, হাতও রাজাকারের পক্ষে ওঠে না। তারপরও এরা নির্বাচন করে সরকার গঠন করবে! ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে এরা পাস করে ফেললে, আমি বিষ খাবো।
তিনি আরও বলেন, “এরা যে বেঁচে আছে, তা শেখ মুজিবুর রহমানের দয়া, জিয়াউর রহমানের দয়া, খালেদা জিয়ার দয়ার কারণ। এখন এরা সাপের মতো ফণা তুলে ধরছে। বিএনপি এদের চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ, চোর-বাটপার হিসেবে চিহ্নিত করে; জামায়াত ছাড়া আর কেউ এভাবে বলে না। এরা মুনাফেক, বেইমান এবং অকৃতজ্ঞ।”
নিজেকে ‘আদর্শিক যুদ্ধের প্রার্থী’ উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। তার ভোটের লক্ষ্য হলো বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষের সমর্থকরা। তিনি বলেন, ভোটারের ধর্ম তার কাছে প্রাসঙ্গিক নয়। “হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান যে ভোটারই হোক, তার কাছেই আমি ভোট চাই। স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন।” কর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ফজলুর রহমানের স্ত্রী উম্মে কুলসুম রেখা, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কালাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর জামান ঠাকুর স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিষ খাওয়ার চরম প্রতিশ্রুতি সবসময়ই সমালোচনার মুখোমুখি হয়। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, এটি কি রাজনৈতিক নাটক, নির্বাচনী কৌশল, নাকি বাস্তব প্রতিশ্রুতি? ১) যদি এটি শুধুই নির্বাচনী রটনা হয়, তাহলে ভোটের পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি? ২) যদি এটি সত্যিই আত্ম-উপলব্ধি, তবে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ৩) এছাড়া, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন চরম প্রতিশ্রুতির কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি ও দলের ভোট ব্যাংক মারত্মক ঝুকিতে পড়তে পারে। ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফজলুর রহমানের বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার ঘোষণা কেবল রাজনৈতিক নাটক হতেও পারে, নাও হতে পারে।

