ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ কেড়ে নিলো ৭, কেন কিছু ভূমিকম্প সুনামি সৃষ্টি করে?

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: শুক্রবার সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে রাজধানীসহ সারাদেশ। চলে কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিস) তথ্য মতে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী।
রাজধানীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভবন ধসে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম মারা গেছেন। তার মা আহত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ পাঁচতলা একটি ভবনের রেলিং ধসে পড়ে। এ সময় মায়ের সঙ্গে বাজার করছিলেন রাফিউল। ভবনের একটি ইট তার মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। দুর্ঘটনায় এই মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজন মারা গেছেন।
ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে লাফ দিয়ে আহত হয়েছেন। এদেরমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল হুদার পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের তিনতলা এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে আরো তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়েছে।
সারাদেশে সর্বশেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭।
কম্পনজনিত বা তাড়নজনিত কারণে ফুলে উঠা পানি বিশাল এক বা একাধিক ঢেউয়ের সৃষ্টি করে এবং তা চারিদিকে সমান মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ঢেউ দ্রুততার সাথে পাড়ে বা পাড়গুলোতে এসে আছড়ে পড়ে। বিশাল সমুদ্রের ক্ষেত্রে, উত্থিত ঢেউ নিকটবর্তি ভূভাগের দিকে ধাবিত হয়। ইংরেজিতে বলে Tsunami। জাপানি শব্দ থেকে এই শব্দের উত্পত্তি। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সুনামি হয় জাপানে। পৃথিবীর ৮০ শতাংশ সুনামি হয় প্রশান্তমহাসাগরে। আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসে মেডিটেরিনিয়ান সাগরে সুনামির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ভূমিকম্প কীভাবে সুনামি সৃষ্টি করে? পৃথিবীর বাইরের স্তরটি অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত। এগুলোকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট। দেখতে অনেকটা টুকরো মেলানো ধাঁধার মতো। এই প্লেটগুলো খুবই ধীরে নড়াচড়া করে। হয়তো বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার, তুলনা করলে বলা যায় আমাদের নখ বাড়ার সমান। এই প্লেটগুলো যখন একে অপরের দিকে বা পাশ দিয়ে সরে যায়, তখন কখনো কখনো তাদের কিছু অংশ ‘আটকে’ যায় আর সেখানে লম্বা সময় ধরে চাপ বা শক্তি জমতে থাকে। একসময় এই চাপ অনেক বেড়ে যায় এবং প্লেটগুলো ঝাঁকুনি দেয় বা পিছলে যায়। এটি ভূমিকম্পের সময় অনুভূত বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে। এটাই যদি সমুদ্রের নিচে ঘটে, তাহলে সেই স্থানচ্যুতি চারপাশের পানিকে জোরে ঠেলে দেয়, যা পরে সুনামি হিসেবে উপকূলের দিকে ধেয়ে যায়। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ্যা ও টেকটোনিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হেলেন জানিশেভস্কি বিবিসিকে বলেন, “সাধারণত সুনামির ঢেউ জেট বিমানের গতিতে ছুটে চলে।” “আপনি যদি ভাবেন, প্লেনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছাতে কত সময় লাগে, বুঝতে পারবেন ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে সুনামির ঢেউ পৌঁছাতে সেই পরিমাণই সময় লাগে,” যোগ করেন তিনি।
সাত মাত্রার বেশি ভূমিকম্পের ফলে বেশিরভাগ সুনামি সৃষ্টি হয়, যেগুলো সমুদ্রের নিচে বা খুব কাছাকাছি স্থানে ঘটে এবং পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিমি বা ৬২ মাইলের কম গভীরতায় হয়। গ্লোবাল হিস্টোরিকাল সুনামি ডেটাবেস অনুযায়ী, ৮৯ শতাংশ সুনামি সৃষ্টি হয়েছে বড় ভূমিকম্প বা ভূমিকম্প-সৃষ্ট ভূমিধসের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *