খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলার সাথে হেতালবুনিয়া খালটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও খালের পাশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু
সেখ রাসেল, ব্যুরো চিফ, খুলনা: আজ শুক্রবার সকাল ৯ টার সময় খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হেতাল বুনিয়া খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণ করে খালটি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সংস্কারের উদ্যোগে হাতে নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন বটিয়াঘাটা উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. তারিকুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর মোল্লা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান, থানা ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, ইসলামবাদ কলেজিয়েট স্কুল, খুলনা এর সহকারী প্রফেসর কৃষি গবেষক সৈয়দ সাজিদুল ইসলাম, বিশ্বের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন BD Clean প্রধান সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম রবি, বিভাগী সমন্বয়ক তিমির মজুমদার, আঞ্চলিক সমন্বয়ক সুদেব বিশ্বাস ও বিডি ক্লিন এর দেশের বিভিন্ন বিভাগ জেলা থেকে আগত ৬০০ সদস্য ও বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের এবং বিভিন্ন সাংবাদিক বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
BD Clean (বিডি ক্লিন) এর বিশ্ব জুড়ে নাম রয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে দেশের কোন না কোন জায়গায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে থাকে ইং ২০১৬ সাল থেকে। বর্তমানে তাদের রয়েছে ৫৫ হাজার সদস্য। এই খালটিতে অতিরিক্ত ময়লা আবর্জনা ও পানি বিষক্ত হয়ে গিয়েছে জেনেও তারা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাচ সহ বিভিন্ন জিনিসে হাত পা কেটে ক্ষত হয়েছে।
হেতালবুনিয়া খালটি এক কিলোমিটার সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL)–এর QR Policy Support Fund এবং Research England–এর আর্থিক সহায়তায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উন্নয়নমূলক সংস্থা লোকজ (LoCoS)।
আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো খাল সংস্কারের মাঠপর্যায়ের কাজ। দির্ঘদিন ধরে লোকজ এনজিও সামাজিক অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ, উদ্ভবন মূলক কাজ করে আসছে। লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেব প্রসাদ সরকার জানান, বটিয়াঘাটা খাল সংস্কার, স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। যাতে এ অঞ্চলে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রকল্প সফল হলে এটি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, খালটির দুই পাশ ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছিল। সংস্কারের পর শুধু পানি প্রবাহই স্বাভাবিক হবে না, বরং জনগণের অবৈধ দখল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতার মাত্রাও বাড়বে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত খালটি সংস্কারের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে কৃষি, যোগাযোগসহ নানামুখী সুবিধা পাবে এলাকাবাসী। বটিয়াঘাটা খাল সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে অঞ্চলটিতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাছাড়া খালটির দুই পাশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলে জনগণ উপকৃত হবে। বিডি ক্লিন খালের ময়লা আবর্জনা খালের পাশে রাখবে সেই জায়গাটুকু নেই। খালের ভিতর ফিলার ও বাঁশ গেথে ব্যবহার করছে। ফেলেছে নানাবিধ ময়লা আবর্জনা। খালটি সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেন লিজ দিয়ে না দেয়, তাহলে আবারও এমন পরিস্থিতি হবে।
বটিয়াঘাটা হেতালবুনিয়া খালটি সংস্কার কাজের উদ্বোধন কালে বটিয়াঘাটা উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ও বর্তমান খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আহমেদ জিয়াউর রহমান উপস্থিত সকল বিডি ক্লিন এর সদস্যদের ও উপস্থিত সকল লোকজন এবং সাংবাদিক বৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে: আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায়, সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব এবং দেশের প্রতি অনুগত থাকিব। দেশের একতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখিবার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব । পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়িয়া তুলিতে নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখিব। আমাদের আশেপাশের কেউ যেন, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা না ফেলেন সে বিষয়ে সচেতন করিব । সর্বদা সাংবিধানিক নাগরিক দায়িত্ব পালন করিব। দেশের প্রচলিত সকল আইন মানিয়া চলিব। হে প্রভু! আমাকে শক্তি দিন, আমি যেন দেশের সেবা করিতে পারি. এবং বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন, শক্তিশালী ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি।- আমিন বলে শপথ শেষে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
সর্বোপরি লোকজ এনজিও ও সাবেক ইউএনও আহমেদ জিয়াউর রহমান স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকার সকল শ্রেণির নাগরিক।

