নট্রামস জাল সনদ ও ভুয়া রেজুলেশন জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতি
হাবিবুল্লাহ বাহার হাবিব : নট্রামস জাল সনদ ও ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে তালা উপজেলায় পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক একটি মহৎ পেশা, যা একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে একটি গভীর সংকট ও বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু স্বৈরাচার আঃ লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অধিকাংশ পাতানো নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক বানিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। যা শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় , সাতক্ষীরা তালা পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে, শেখ আব্দুল হাই নট্রামস জাল সনদ দিয়ে মাউশি’র কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে পাতানো নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে পাটকেলঘাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী পান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । মিথ্যা তথ্য ও জাল সনদে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করার অভিযোগ হলেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বরং এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতাও নিচ্ছেন। নিচ্ছেন সকল সুযোগ সুবিধাও। জাল সনদে চাকরি করার সুবাদে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতি সাধন করেছে। অপরদিকে বৈধ সনদ থাকার পরেও যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার মান কমে গেছে । জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ এবং সরকারি আর্থিক ক্ষতি সাধন সহ সমাজে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ আব্দুল হাই জাতীয় বহুভাষী স্যাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নট্রামস) এর জাল সনদ দেখিয়ে অবৈধভাবে পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী (কম্পিউটার) শিক্ষক পদে চাকরি পান। যাহার যোগদানের তারিখ ছিল ০২/০৪/২০০১ খ্রী:। ইন্ডেক্স নাম্বার ৫৬৮০১১২৩ ও বেতন কোড ১০। নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই কমিটিতে তার নট্রামস সনদ সঠিক নয় বলে জাল প্রমাণিত উল্লেখ আছে ।
ঐ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে আবেদন কারী কাকুলি দাশ ও অনুপমা বসাক দুই জন মহিলা প্রার্থী ছিলো। নিয়োগ পরিক্ষায় অনুপমা বসাক উত্তীর্ণ হয়। পরিক্ষার ফলাফল সীটে কৌশলে অনুপমা বসাকের নাম কেটে পুরুষ প্রার্থী অনুপম বসাক লিখে ফলাফল সীট প্রকাশ করে। মহিলা কোটা পূরণ না করে নিয়োগ বিধি উপেক্ষা করে আঃ লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আব্দুল হাই কম্পিউটার শিক্ষক পদে চাকরি নিয়ে নেয়। নিয়োগে বোর্ড বিধি উপেক্ষা করে ২ জন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। নিয়োগে বোর্ড রেজুলেশনে কাটাকাটি উল্লেখ রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঐ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেহেনা খানম বিগত ২০১৬ তে ২৫ মার্চে অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ঐ প্রধান শিক্ষক শূন্য পদে আব্দুল হাই প্রধান শিক্ষক হওয়ায় শুরু হয় অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার। সর্বত্রই ব্যাপক দুর্নীতি করে আর্থিক লুটপাট সহ তার স্বেচ্ছাচারিতার শেষ নেই।
প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের অবশ্যই ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে উল্লেখ করা হলেও অভিজ্ঞতা না থাকার সত্ত্বেও নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে আঃ লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। এতে করে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া দারুন ভাবে বিকৃত হয় এবং অভিভাবক মহলের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয় ।
তথ্যানুসন্ধানে, প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই সরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভোটের সময় বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ২ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা, বিদ্যালয়ে ৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৫০ লক্ষ টাকা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি থেকে ৪ লক্ষ টাকা, লাল-সবুজ সমিতি করে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন । সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের (অবসরপ্রাপ্ত) তার সমিতিতে সঞ্চয়ের ৬ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করে উত্তোলন করে নেয়।আব্দুল কাদের টাকা চাইলে আব্দুল হাই শুধু টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করে। আব্দুল কাদেরের এখনো তার প্রাপ্য টাকা ফেরত পাইনি। তার পরিবারে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে।
অভিযোগ রয়েছে, রেহেনা খানমের অবসরের পর তার অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট পত্রে সহি-স্বাক্ষর করেনি। বরং শেখ আব্দুল হাই, কিংকর কুমার রায়, প্রবীর দেবনাথ, ফেরদৌসি খাতুন, আজহারুল ইসলাম ও আনোয়ারুল ইসলাম একজোট হয়ে রেহেনা খানমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে এবং সরকারি অর্থ না দিয়ে বরং আত্মসাৎ করে। এসব লুটপাটের টাকা আনোয়ারুলের পকেটও ঢুকেছে এবং সভাপতির কাছে সে স্বীকার করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরত চাইলে আনোয়ারুল পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাত দেখায় । সরেজমিনে গিয়ে হাজিরা খাতায় দেখা যায়, আনোয়ারুল অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। আব্দুল হাই জুলাই আন্দোলনের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।
ত্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে রেহেনা খানম ১৯৮২ সালে নভেম্বর মাসে সহকারী শিক্ষিকা পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং সুনামের সহিত দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ঐ বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক রেহেনা খানম বিগত ২০১৬ তে ২৫ মার্চে অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ঐ প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে আব্দুল হাই প্রধান শিক্ষক হওয়ায় শুরু হয় অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার। সর্বত্রই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আর্থিক লুটপাট সহ তার স্বেচ্ছাচারিতার কোনো শেষ নেই।
তথ্যানুসন্ধানে, রেহানা খানম দায়িত্বে থাকাকালীনে দশম-খ শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুকন্দ মন্ডল কে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেন। ব্যবস্থাপনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১১/১/১৫ ইং তারিখে ১০ ম খ- শাখার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় দৈনিক কাফেলা ও দৈনিক সংবাদ প্রত্রিকায়। পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মুকুন্দ মন্ডল ৮ নম্বর প্রার্থী ছিলেন। ৯/২/১৫ ইং তারিখে ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগের জন্য সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসে যান। জেলা শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন কারণে নিয়োগে আপত্তি জানালে, ১৬/৪/১৫ ইং তারিখে রেহানা খানমের লেখা রেজুলেশন বোর্ড বাতিল সহ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়। মুকুন্দ মন্ডলকে খন্ডকালীন শিক্ষক রেখে রেহেনা খানম ২৫ /৩ /১৬ ইং তারিখে অবসর নেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই তার সময়ে ২ জন শিক্ষক নিয়োগে করেছেন ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি। ২০১৫ সালের রেহানা খানমের রেজুলেশন সহি স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া রেজুলেশন খাতা করে পাতানো নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। সম্মানিত ২ জন সদস্য জনাব পুলক কুমার ও জনাব আসকার আলী কে রেজুলেশন খাথায় ধারাবাহিক ভাবে উপস্থিত দেখানো হয়েছে।
আবার অসকার আলীকে অনুপস্থিত দেখিয়ে সমর্থন দেখানো হয়েছে যাহা চরম জালিয়াতির সামিল। তৎকালীন সভাপতি সংকর কুমার সাধুর চক্রান্তে প্রধান শিক্ষক সহ জেলা ও উপজেলার শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে।
তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার ২০ দিন পর সাবেক প্রধান শিক্ষক রেহেনা খানমের স্বাক্ষর ও সীল সহি ও রেজুলেশন জালিয়াতি করে ২ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন। রেহেনা খানম প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন সময়ে মুকন্দ মন্ডল খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তার স্বহস্তে লেখা রেজুলেশন ৬ নং খাতা যাহা ১২/০৪/২০১১ থেকে ০৮/০৩/২০১৬ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ ছিল।
প্রথম নিয়োগ বাতিল হওয়ায়, মুকুন্দ মন্ডলকে ৫/৬/১৭ ইং তারিখে পুনরায় খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ভুয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক পদে তাকে ১২/৪/১৬ ইং তারিখে নিয়োগ দেয় এবং ১৪/৪/১৬ ইং তারিখে যোগদান করেন। ৫/৬/১৭ তারিখে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ১২/৪/১৬ ইং তারিখে নিয়োগ কিভাবে সম্ভব ? প্রশ্ন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।প্রকৃত রেজুলেশন গোপন করে ভুয়া রেজুলেশন জালিয়াতি যাহা তদন্ত করলে প্রমাণ মিলবে। আব্দুল হাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও নিয়োগ পত্রে উল্লেখ করছেন প্রধান শিক্ষক।
তথ্য অনুসন্ধানে, আনোয়ারুল ইসলাম অফিস সহকারী থাকাকালীন সময়ে তার নিজ হস্তে লেখা রেজুলেশন ১৫/৯/২০১৫ হতে ৮/১১/২০১৫ পর্যন্ত মুকন্দ মন্ডলের নিয়োগ সংক্রান্ত। রেহেনা খানমের স্বহস্তে লেখা ১৫/৯/১৫ তারিখের মূল রেজুলেশন খাতা মিল রেখে আনোয়ারুলের লেখা জাল রেজুলেশনে মুকুন্দ মন্ডল কে ব্যাক ডেইথের তারিখ দিয়ে ৯ম গ- শাখায় ১২/৪/১৬ তারিখে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজুলেশন মূল খাত পরিবর্তন করে ভুয়া রেজুলেশনে ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও ডিজি প্রতিনিধির সহ প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রেহেনা খানমের সহি- স্বাক্ষর জালিয়াতি করে। নিয়োগে উল্লেখ নেই ডিজির প্রতিনিধির নাম । নিয়োগে ডিজি প্রতিনিধির চিঠিতে স্বারক নাম্বার-২৬৫১ উল্লেখ থাকলেও জেলা শিক্ষা অফিসে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।
তথ্যানুসন্ধানে, আনোয়ারুল ইসলাম অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পায় ২৭/৭/২০০৩ ইং তারিখে। যাহার ইন্ডেক্স নাম্বার ১০০২৯৬১। উক্ত পদ থেকে তিনি ২৮/২/ ১৯ সালে অফিস সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যাহার চলমান রেজুলেশন খাতা ৮- এ লিপিবদ্ধ আছে । আনোয়ারুল ২১/১০/২০ সালে সরকারি ও কল্যাণ ট্রাস্ট ভাতার জন্য আবেদন করেন। যাহার বিস্তারিত ৮৫ ও ৮৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। আবার ২৮/২/১৯ সালের পদত্যাগ দেখিয়ে সরকারি এমপিও ও স্কুলের বেতনের টাকা উত্তোলন করেন যা আইনানুগ সম্পূর্ণ অবৈধ। ২০১৯ সালে মার্চ মাস থেকে ১০ ম/ খ- শাখায় অফিস সহকারী ইন্ডেক্সে নাম্বারে টাকা উত্তোলন করেন। সূত্রে মতে, আনোয়ারুল ইসলাম ২৮/২/১৯ সালে অফিস থেকে পদত্যাগ করেন। এবং ১৬/৪/১৬ তারিখে অফিস সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে একই সাথে দুই পদের বেতনের টাকা উত্তোলন করেন। ঐ বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগে রেজুলেশন জালিয়াতি সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির নেতৃত্বে দেন তালা শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান।
রেহেনা খানমের স্বহস্তে লেখা নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যবলি ১১/১/১৫ ,০৯/০২/১৫ ,১৬/০২/১৫ ১৮/০৫/১৫ দশম -খ রেজুলেশন খাতা চুরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬/০৪/১৬ ইং তারিখে অর্থাৎ রেহেনা খানমের অবসরের ২১ দিন পর আনোয়ারুল কে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করেন। রেহেনা খানম সভাপতি হওয়ার পর মৌখিকভাবে আনোয়ারুল কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রমাণ পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।
তথ্য সূত্রে , আনোয়ারুল ইসলাম নিয়োগের অনিয়ম ও দুর্নীতির অপকর্ম ঢাকতে নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম রেজুলেশন, প্রকাশিত পত্রিকা, আবেদন ও পোষ্টার, অফিস সহকারী নিয়োগ ও পদত্যাগ পত্র, সরকারি কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর ভাতার জন্য আবেদন পত্র, অফিস সহকারী পদত্যাগ দেখিয়ে এমপিও বেতন ও স্কুল প্রদত্ত বেতন, শিক্ষক হাজিরা খাতা সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রমাণপত্র সরিয়ে ফেলে।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল্লাহ বলেন, লাল সবুজ সমবায় সমিতিতে শিক্ষকদের জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করেন। পাতানো নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগে আব্দুল হাই মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আনোয়ারুল ইসলাম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতন ফান্ডের ২,২৫,১৯০ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ১,০১৮৩২ টাকা জমা দেন, বাকী ১,২৩,৩৫৮ চাইলে টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করে।
সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান সভাপতি রেহেনা খানম বলেন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং সততা বজায় রাখা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত জরুরি। চলমান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া তৈরির সুযোগ তৈরি না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ।
পাটকেলঘাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কালে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কিছু দালাল মিডিয়া ও চাঁদাবাজ সাংবাদিক এই প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। যাহা এই প্রতিবেদকের জীবননাশের হুমকি স্বরূপ।
এবিষয়ে সাক্ষাৎকারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

