একজন প্রাথমিক শিক্ষকের বার্তা

ঢাকা স্টাফ রিপোটার: গত কয়েকদিন থেকে এই সমাজের শিক্ষিত সমাজ, বন্ধু, বড় ভাই এবং অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী প্রাইমারি বিদ্যালয়ের যৌক্তিক আন্দোলন কে নিয়ে অনেক কথা শুনাইলেন। তার কিছু দিন আগে সারা বাংলাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে সবাই সহমর্মিতা পোষণ করেছিলেন নিঃসন্দেহে সেটা অনেক ভালো কাজ।
কিন্তু প্রাইমারির শিক্ষকদের আন্দোলন কে আপনারা মেনে নিতে পারলেন না।এর অবশ্য অনেক কারণ রয়েছে যেমন বলবেন শিক্ষাগত যোগ্যতা কম আছে এমন শিক্ষক রয়েছে আবার ৬০% নারী কোটা ছিলো আবার পোষ্য কোটা, নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি এসব আরও অনেক কারণ। আপনাদের কথাগুলো যৌক্তিক এবং অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। হে শিক্ষিত সমাজ একটু চিন্তা করে দেখেন তো এই যে এত এত সমস্যার কথা বললেন এসবের জন্য কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে একজন রিক্সাওয়ালার মেধাবী সন্তান, একজন দিন মজুরের সন্তান একজন গার্মেন্টস কর্মীর বাসায় রেখে যাওয়া সন্তান। এরাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি মেধাবী হয় ধনীর দুলালীদের থেকে এদের থেকেই কিন্তু সচিব,জর্জ, ব্যারিস্টার এবং ইন্জিনিয়ার বেশি হয়ে থাকে, আর আপনারা এদেরকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।প্রাইমারি সেক্টর আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে যোগ্যদের ধরে রাখা যাচ্ছে না বলে।একবার ভাবুন তো আপনার পাশের একটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ২ জন শিক্ষক রয়েছে,সেই বিদ্যালয়টি কেমন চলবে?? আবার একটা বিদ্যালয়ের সবাই কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং মেক্সিমাম শিক্ষক এইচএসসি পাশ সেটা কেমন চলবে??আপনি যদি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নতি চান তাহলে অবশ্যই এই সেক্টরে মেধাবীদের ধরে রাখতে হবে।আর মেধাবীদের ধরে রাখতে গেলে অবশ্যই বেতন কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে যে সব অযোগ্য শিক্ষক রয়েছে তাদের কেন বেশি বেতন দিতে হবে??
এরকম প্রশ্ন আসতেই পারে তবে বলব একটা প্রজন্ম অযোগ্যদের ভালো বেতন দেন পরের প্রজন্ম লাভবান হবে।সামনের বাংলাদেশ লাভবান হবে।

আর বেশি কিছু লিখবো না শুধু এতটুকু বলবো সমালোচনা করেন তবে বুঝেশুনে তারপর করেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন যেন এই অভিশপ্ত ডিপার্টমেন্ট থেকে মুক্তি পাই। ধন্যবাদ সবাইকে। মো: মাসুদ রানা সহকারী শিক্ষক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *