শেরপুরে কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে কলম বিরতি

জাহাঙ্গীর হোসেন, শেরপুর : শেরপুরের নকলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর উপর বর্বরোচিত শারিরিক আক্রমণের প্রেক্ষিতে দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এক ঘন্টার কলম বিরতি পালন করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টার ওই কলম বিরতি পালন করেন তারা।

কলম বিরতিকালে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সাংবাদিকদের জানান দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অফিসে ঢুকে একজন সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলা প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। তাঁরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য গত ৫ নভেম্বর বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর অফিসকক্ষে যান উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম (৩৫)। ওইসময় বাহিরে অপেক্ষা করছিলেন ছাত্রদলকর্মী ফজলু (৩২)। কাইয়ুম কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদীর কাছে কৃষি প্রণোদনা বিএনপির কোন কোন নেতাকে দেওয়া হয়েছে জানতে চান এবং ছাত্রদলের ভাগ তাঁকে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কৃষি কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক বিষয়টি মোবাইল ফোনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক খোরশেদুর রহমানকে জানালে কাইয়ুম আরও ক্ষিপ্ত হন এবং কথা বলার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে চড় মারেন। পরে কাইয়ুম কৃষি কর্মকর্তাকে টেনেহিঁচড়ে অফিসকক্ষের বাহিরে নিয়ে ফজলু ও কাইয়ুম মিলে মারধর করতে থাকলে আশপাশের লোকজন গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিয়ে ওইদিন কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাহাত হাসান কাইয়ুম ও সদস্য ফজলুকে অভিযুক্ত করে নকলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশ একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে। পরদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কাইয়ুমকে দলীয় পদপদবী ও সাধারণ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে। কাইয়ুম ও ফজলু বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন জানান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সাড়াশি অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *