বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় ও চিনিকল চালুর দাবিতে সেতাবগঞ্জে স্মারকলিপি প্রদান

সজীব আব্দুল্লাহ স্টাফ রিপোটার: সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকলের বরাদ্দকৃত অর্থ অবিলম্বে ছাড় এবং পরবর্তী ধাপে মাড়াই বন্ধকৃত চারটি চিনিকল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক মো. বদরুদ্দোজা বাপন ও সদস্য সচিব মো. সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশারের নিকট উক্ত দাবিকৃত স্মারকলিপি জমা দেন।

মো. বদরুদ্দোজা বাপন ও মো. সোহাগ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, “বিগত পতিত ফ্যাসিষ্ট সরকারের রাষ্ট্রীয় শিল্প ধ্বংসের নীতির ফলশ্রুতিতে ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয়টি চালু চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনঃচালনা আন্দোলন পরিষদ বন্ধ ছয়টি চিনিকল চালু করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানায়।”

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, “সেই প্রেক্ষাপটে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবছর দুটি করে পর্যায়ক্রমে ছয়টি চিনিকল চালু করার অনুমোদন দেন। সেই মতে বাজেট প্রণীত ও গৃহীত হয়। প্রথম বছর সেতাবগঞ্জ ও শ্যামপুর চিনিকল খুলে দিতে আখ চাষের জন্য যে টাকা চাওয়া হয়েছিল তা এখনো অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড় করেনি। সেতাবগঞ্জ চিনিকলের জন্য ৮ কোটি ২৩ লক্ষ ও শ্যামপুর চিনিকলের জন্য ৫ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা ছাড় করা হয়নি।”

তারা উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বর মাস থেকে আখ চাষের মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও উপরোক্ত চিনিকল দুটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকার ও এলাকার সাংসদেরা চক্রান্ত করে চিনিকলগুলোর বিপুল সম্পদ ভোগদখল ও লুণ্ঠনের জন্য তা বন্ধ করে দিয়েছিল। আখচাষী, চিনিকল শ্রমিক এর উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর চার বছরের আন্দোলনকে গ্রাহ্য নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বন্ধ চিনিকলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এক অদৃশ্য সুতোর টানে পাস হওয়া বাজেট ছাড় হচ্ছে না। আখচাষীরা পুনরায় এক দীর্ঘ হতাশার মধ্যে নিপতিত হচ্ছেন।”

এমতাবস্থায়, স্মারকলিপিতে সেতাবগঞ্জ চিনিকল ও শ্যামপুর চিনিকলের বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করে চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করার মাধ্যমে এলাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরির দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *