গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখি, কি সিদ্ধান্ত নিবে সরকার
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াত মুখোমুখি অবস্থানে। কেউ কারো দাবি থেকে সরে আসবেনা বলে মনে হচ্ছে। বিএনপি বলছে, সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট হতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলাম বলছে গণভোট ও জুলাই সনদ জাতীয় নির্বাচনের আগে। এজন্য ১১ তারিখ পর্যন্ত আলটিমেটাম, না মানলে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে, জামায়াতের গোলাম পরোয়ার।
অপরদিকে সংস্কারসহ জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি স্পষ্ট করে বলেছে, ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে ঐকমত্য কমিশন শুধু মিটিং আর খাওয়া-দাওয়াই করল। আর এখন সরকার বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিন সময় দেওয়া হলো, মতবিরোধ নিরসন করতে। বিএনপিকে কি আপনাদের খেলনা মনে হয়? মনে রাখবেন, বিএনপি ভেসে আসা দল নয়।
জামায়াত বলছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই হবে। বিএনপিসহ যেসব দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে সেটি ছাড়াই ঐকমত্য কমিশন প্রস্তাবিত সুপারিশের ওপর গণভোট দিতে হবে।
গত কয়েকদিন থেকে গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা খুবই শক্ত ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন, নানারকম আলটিমেটাম ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার যশোর টাইন হল মাঠে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কড়া ভাষায় বলেছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টাও করছে। এমনকি তারা নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন।
এদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা গত কয়েকদিন থেকে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। জামায়াতের নেতারা বলছেন, আমরা নির্বাচনে প্রস্তুত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় বিএনপি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে চায় না, ট্যাকনিকালি এড়িয়ে যাচ্ছেন, বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে সরাসরি না বলতে পেরে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। মূলত ক্ষমতায় গেলে তারা এসব বাস্তবায়ন করবে না। এজন্য জাতীয় সার্থে জামায়াত সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন করতে মরিয়া।
এ দাবির সপক্ষে জামায়াত ইতোমধ্যে সমমনা আরও ৭টি দলকে তাদের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সবমিলিয়ে আট দলের ৯ নেতা বৃহস্পতিবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। এর আগে আট দলের পক্ষ থেকে বেলা ১২ টায় পল্টন থেকে মিছিল বের করা হয়। সেখানে সরকার এবং বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দেন জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ওদিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর মৎস্য ভবন মোড়ে এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতসহ যে ৮টি দল পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে তা ১১ নভেম্বরের আগে সরকারকে মেনে নিতে হবে। তা না হলে দাবি আদায়ে মহাসমাবেশ হবে এবং ওইদিন ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে।
এদিকে জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো জোট বা সমঝোতা না হলেও তারা নির্বাচনের আগে কোন কোন নেতারা গণভোট ও জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি দেখতে চায়।
এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে ফের সংশয় দেখা দেবে। এছাড়া সমঝোতার মেয়াদ সাত দিন পার হওয়ার পর সরকার যদি একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাতেও সংকট দূর হবে বলে মনে হয় না। মূলত এখানে সরকারেরই ভূমিকা রাখা দরকার ছিল। অহেতুক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করা হচ্ছে। সরকারের উচিত হবে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ নির্বাচনমুখী সব দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা।

