ভরা ডুবির ভয়ে খুলনা বারের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা

এম এ জলিল বিভাগীয় প্রতিনিধি খুলনা : খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী৩০ নভেম্বর এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই নির্বাচন স্থগিতহওয়ায় খুলনা বারের আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলাতায়নে বিকাল ৪টায় সংবাদসম্মেলন করে বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল মনোনীত অ্যাডভোকেটমো. আবুল খায়ের ও অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম পরিষদ।এবং সংবাদ সম্মেলন করেন স্বতন্ত্র আইনজীবীদের প্যানেল আক্তারজাহান রুকু ও নিহিত কান্তি ঘোষ পরিষদের প্রার্থীরা।

উভয় পরিষদের প্রার্থীদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট রাজনৈতিকপট-পরিবর্তনের পর সমিতির সাবেক সভাপতি খুলনা সদর থানাআওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম পরিষদের সব সদস্যপালিয়ে যান। ৬ আগস্ট বিএনপিপন্থি আইনজীবী আব্দুল্লাহ হোসেনবাচ্চুকে আহ্বায়ক ও নুরুল হাসান রুবাকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যেরঅ্যাডহক কমিটি গঠন হয়। প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বর সমিতির বার্ষিকনির্বাচন ও নতুন বছরের প্রথম দিন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথা আছে। কিন্তুঅ্যাডহক কমিটি নানা অজুহাতে ২০২৪ সালে নির্বাচন না দিয়ে সাধারণসভায় তাদের মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়।২০২৬ সালের নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন গঠন ও তফসিল ঘোষণা হয়।মনোনয়নপত্র বিক্রির নির্ধারিত দিন ৩০ অক্টোবর কোনও মনোনয়নপত্রতারা বিক্রি করেননি। তখন বলা হয়, ক্লারিক্যাল মিসটেকের জন্য ফরমবিতরণ করা যাচ্ছে না। ২ নভেম্বর পাওয়া যাবে। কিন্তু এদিন সকালথেকে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যেঅ্যাডহক কমিটি দুপুর ২টায় সমিতি ভবনের ১ নম্বর হলরুমে একটিজরুরি সভা দেখিয়ে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতঘোষণা করেন। তারাই সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণাদেন।

সংবাদ সম্মেলনে ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে দুরভিসন্ধি মূলক ভাবেভোট বানচাল করেছে। আমরা সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত নির্বাচনকমিশনকে সময় দিলাম। তারা ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থহলে আইনজীবীদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবো।’ সংবাদসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামলিটন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান।

স্বতন্ত্র প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকুসংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলামনির্বাচন দিয়ে ভোট কারচুপি করতো। ক্ষমতার দখল নিতো। কিন্তু আজবিএনপি ভোট না দিয়েই ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। আগামী বছরেরমার্চ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর অর্থ, এর আগে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিক্ষমতায় আসবে বলে আশা করছে। এরপর তারা ভোট ছাড়াই বারেরদখল নিয়ে আয়ের কোটি কোটি টাকা লোপাট করবে। সোমবার বিকাল৩টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলাম। এরপর আমরা নতুন অ্যাডহক কমিটিঘোষণা এবং ইসি কমিটির রুমে তালা মারতে বাধ্য হবো।’ এ বিষয়ে চলমান কমিটির বক্তব্য নেওয়ার জন্য ইসি রুমে গেলে কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সদস্য কে পাওয়া যায় নাই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *