প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক শেষে জামায়াতের ড. তাহের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নভেম্বরে গণভোট না হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ আদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায়

স্টাফ রিপোটার: গণভোট আগে না হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন দুটি একেবারেই আলাদা জিনিস। দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কোনো জটিলতা চাই না। গণভোট আগে হতে হবে। নভেম্বরের শেষের দিকে গণভোট করেন। তারপরেও আরও আড়াই মাস থাকবে জাতীয় নির্বাচনের।
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন সেই সাথে নির্বাচনের আগে যে সংস্কারগুলো জরুরি তা সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে জানিয়েছি। সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমরা বলেছি, এটি আদেশ আকারে জারি করার জন্য। কারণ, অধ্যাদেশ খুবই দুর্বল।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বসা হচ্ছে। আমরা বসেছি, সরকারও বসেছে। সবাই আদেশের কথা বলছে। আদেশের ভিত্তিতে গণভোট হবে। বিএনপি প্রথমে গণভোটে ‍দ্বিমত করলেও এখন সম্মত হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন, তবে বিএনপি গণভোট নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি করছে। তারা জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একসঙ্গে চায়। অথচ গণভোট আর জাতীয় ভোট আলাদা। গণভোটের মাধ্যমে রিফর্ম কমিটি আলাদা হবে। আর জাতীয় ভোটের মাধ্যমে দেশ চলবে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী একটি দলের আনুগত্য করছে জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, সরকারি অফিস, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি দলের আনুগত্য করছে। অন্তর্বর্তী সরকারকের বলেছি, এসব জায়গায় বদলি বা পদায়নের মাধ্যমে ভারসাম্য আনতে হবে। নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় যান কজামায়াতে ইসলামীর পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটি এম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আমরা দুটি স্পষ্ট কথা বলেছি, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বহু লোকের পরিশ্রমে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আমরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, তার মধ্যে মৌলিক কয়েকটি পয়েন্ট আছে। এখন প্রয়োজন এটাকে আইনি ভিত্তি দেওয়া, এটাকে বাস্তবায়ন করা এবং এই সনদের মধ্যে যেগুলো আগামী নির্বাচন সম্পৃক্ত-সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকে আগেই পাস করিয়ে তার ভিত্তিতে নির্বাচন দেওয়া। এটাই হলো গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, বিশেষ আদেশে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চায় জামায়াত। আইনের কোনও ব্যত্যয় না থাকলে এ বিষয়ে আমরা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার আদেশের কথা বলেছি। যার মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পাস করিয়ে তার ভিত্তিতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তবে আমরা কোনোভাবেই এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির আদেশের পক্ষে নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *