জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না : প্রধান নির্বাচন কমিশনার
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে বরিশালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী, ১৯ মে, ২০২৫ (বাসস): নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাছউদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ আর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ কারণে দলটি বর্তমানে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আজ সোমবার সকালে রাজশাহীর আঞ্চলিক লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৫: পরবর্তী মূল্যায়ন ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘যেহেতু আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার নিষিদ্ধ করেছে, তাই বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে নির্বাচনের আগে বিচার শেষ হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছি।’
নকলায় বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ
সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। আগে যেমন দুই-তিনটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, এবার তেমন কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ আসবেই, কিন্তু আমরা হাসিমুখে তা মোকাবিলা করব।’
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সত্য যাচাই না করে কেউ যদি গুজব ছড়ায়, তা বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। অপতথ্য রোধে নির্বাচন কমিশনে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।’ এনসিপির শাপলা প্রতীক প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘কোনো দলের প্রতীক দিতে হলে তা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত প্রতীক হতে হবে। এনসিপি যে প্রতীক চেয়েছে, সেটি তালিকাভুক্ত নয়, তাই দেওয়া সম্ভব নয়।’ পিআর পদ্ধতি (Proportional Representation) নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, আইন অনুযায়ীই নির্বাচন পরিচালনা করছি।’ সিইসি আরও বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোটের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন, তাদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।’ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।

