মোরেলগঞ্জে শিক্ষক বাশার এখন সফল মাল্টা চাষী, বছরে আয় দেড় লাখ টাকা!
এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলের বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষক বাশার তালুকদার এখন সফল ফল চাষী।
মাত্র ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করে বছরে উপার্জন করছেন দেড় লক্ষ টাকা। অধ্যবসায়, পরিশ্রম সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে পারে বলে মনে করেন সফল উদ্যোক্তা বাশার।
তার হাতে গড়া বাগানের মাল্টা এখন স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন এ সফল চাষী।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নে বেতকাশি গ্রামের সফল কৃষক শিক্ষক বাশার তালুকদার। মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করে জামির তলা দাখিল মাদ্রাসার কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে ১১ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় আছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের এক একর জমিতে পাঁচ বছর ধরে মাল্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এ চাষী। তার বাগানের স্থানীয় বারি- টু জাতের মাল্টার চারশ’ এর বেশি গাছ ও “ভেরিগেট” স্থানীয়ভাবে বাংলালিংক নামে পরিচিত এক শতাধিক গাছ রয়েছে।
গাছ রোপণের ছয় মাস পরই ফল ধরে। এরপর থেকে প্রতি বছর আগষ্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর পর্যন্ত ৩ মাস এ ফল বিক্রির জন্য তোলা হয়।
প্রতিদিন বিক্রেতারা পাইকারীভাবে কিনতে তার বাগানে আসছেন। বাগানে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এ বছর ভালো ফলন হলেও বাজার দর কম থাকায় সফল এ চাষী তবুও উদ্যোম হারাননি। এখনো গোটা বাগান জুড়ে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে মাল্টা ফল।
বাশার তালুকদার বলেন, বাগানের ফল বিক্রি করতে শুরু করেছি দুই মাস পূর্বে থেকেই।
আরও এক মাস বিক্রি হবে, তবে এবারে একটু বাজার দর কম। অন্যসব বছরে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত এ বাগান থেকে মাল্টা ফল বিক্রি হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যার জন্য মাসিক চুক্তিতে ২৫ হাজার টাকা বেতনে ২ শ্রসিক সার্বক্ষণিক কাজ করে। এছাড়াও ফল আসা ও শেষ হওয়ার সময় অতিরিক্ত ৮/১০ জন শ্রমিক নিয়মিত বাগানে কাজ করে।
আগাছা পরিষ্কার জৈব বালাইনাশক সার সব কিছু ব্যয় মিটিয়ে বছরে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয় ২ বিঘার এ বাগানটিতে। শুধু মাল্টা নয়, নতুন করে ড্রাগন ফল লাগানো হলো।
এছাড়াও মৎস্য ঘের, ঘেরের ভেরিতে লাউ, মিষ্টি কুমার, শসা, ঝিঙে, করলাসহ বিভিন্ন সবজি ও উৎপাদন করা হয়। ইতোমধ্যে তিনি কৃষি দপ্তর থেকে সফল চাষী হিসাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায় দুই বার পুরষ্কার অর্জন করেছেন।
দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়ন উপ-সরকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, বাশার তালুকদার একজন উদ্যোমী উদ্যোক্তা। তার মাল্টা বাগান দেখে পাশের গ্রাম থেকে চাষীরা আসেন তার কাছে পরামর্শ নিতে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ রকম উদ্যেক্তাদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছরে উপজেলায় ২৭ হেক্টর জমিতে ৭৩ মেট্রিকটন মাল্টা ফলন করিয়েছে কৃষক। বিশেষ করে দৈবজ্ঞহাটী, রামচন্দ্রপুর, বনগ্রাম, চিংড়াখালী ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নে এ মাল্টা ফলন বেশি ভালো হয়েছে।
এ মাল্টা ফলন চাষীদেরকে কৃষি অফিস ইতোমধ্যে চারা সরবরাহের পাশাপশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রশিক্ষন দেওয়া হয় কৃষি দপ্তর থেকে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে সফল উদ্যেক্তাদের সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন।

