প্রাথমিকেও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি চরমোনাই পিরের

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালায় সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ দাবি জানান। রেজাউল করিম বলেন, ‘লেখাপড়ার মানের অবনতির কারণে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে যাচ্ছে, বাচ্চাদের মানসিক ও আদর্শিক ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সরকার সে দিকে লক্ষ না করে গানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে।’ গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুইটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছে।

রেজাউল করিম বলেন, ‘মানুষ বাচ্চাদের ছোটকালে ইসলাম শেখাতে চায়। ইসলামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। সরকারের উচিৎ স্কুলগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। তারা সেটা করছে না। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন প্রজন্ম গড়তে অবিলম্বে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে; না হয় দেশের মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যদি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে ধিক্কার দেবে। তাই উলামায়ে কেরামকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।’ পরগাছা হয়ে থাকলে কখনোই মূল গাছ হয়ে ওঠা যায় না মন্তব্য করে রেজাউল করিম বলেন, ‘এখন সময় মূলগাছা হয়ে ওঠা। তাই যারা ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে, কিন্তু দেশকে মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়, যারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দেয় তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা উলামায়ে কেরামের শানে মানানসই না।’ এর আগে প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলাম বিরোধী অ্যাজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটি এর বদলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগকে বিধিমালায় যুক্ত করার দাবি করে বলেছে, এতে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *