নিকলীতে রোগীকে মারধরের ঘটনায় ডা: সজিব ঘোষের পদত্যাগ দাবি
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগী রফিকুল ইসলাম মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৩/০৯/২৫ তারিখ শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে শহীদ স্মরণীকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মোড় থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ডা: সজিব ঘোষের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সামান্য ওষুধের অনুরোধ করায় ডা: সজিব ঘোষ রোগী রফিকুল ইসলামকে প্রথমে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন একপর্যায়ে থাপ্পড় মারেন। পরে হাসপাতালের স্টাফদের নির্দেশ দিয়ে রফিকুলকে বেধড়ক মারধর করে গেট বন্ধ করে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, রফিকুল ইসলাম ডায়াবেটিসের ওষুধ চাইলে ডাক্তার সজিব ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক নাইম সরাসরি ফেসবুক লাইভে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সেবা প্রত্যাশী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোগী মারধর করে থানায় পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ডা: সজিব ঘোষ সরকারি ওষুধ প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের বাসায় পাঠান। রিপ্রেজেন্টেটিভদের অগ্রাধিকার দেন, এমনকি নিজ মালিকানাধীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠিয়ে থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগীর ওপর হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ভুক্তভোগীর ভাই লেলিন ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করেনি। বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, সরকারি মালামাল ভাঙচুর এবং ডাক্তারের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং পরদিন রফিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ডা: সজিব ঘোষের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

