কেরু আধুনিকায়ন প্রকল্প ২ বছরের হলেও ১৩ বছরেও শেষ হয়নি

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অবস্থিত দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড আধুনিকায়নের নামে চলছে দীর্ঘসূত্রিতা। দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে তবুও কাজ শেষ হয়নি। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকল এক সময় চিনি, ভিনেগার, সার ও দেশী-বিদেশী মদ উৎপাদনের মাধ্যমে সরকারের অন্যতম রাজস্ব আয়ের উৎস ছিল। কিন্তু কারখানার যন্ত্রপাতি পুরনো ও অচল হয়ে পড়ায়, ২০১২ সালে নেয়া হয় আধুনিকায়ন প্রকল্প। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৯ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ছিল ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। পরে বারবার সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় দাঁড়ায় ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায়। এর মধ্যেও খরচ হয়ে গেছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। অথচ কাজের অগ্রগতি মাত্র ৭৮ শতাংশ। এখন পর্যন্ত সাতবার সময় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটির। খরচ না বাড়ানোর শর্তে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে একনেক। প্রকল্পের শুরুর দিকে দায়িত্ব পায় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। তারা সাব-কন্ট্রাক্ট দেয় ভারতের সায়সিদা সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানিকে। কিন্তু ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরে ভারতের উত্তম এনার্জি লিমিটেড নতুন ঠিকাদারি পায়। জানা যায়, ভারতীয় প্রকৌশলীসহ ২২ জন বিদেশী বিশেষজ্ঞ বিগত ১৩ বছর ধরে কেরুর অতিথিশালায় অবস্থান করছেন। ডলার বেতনে বেতন নিচ্ছেন কিন্তু প্রকল্পে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারছেন না।

প্রকল্পের বিলম্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় আখচাষি ও শ্রমিকরা। প্রতিবছর তারা আখ উৎপাদন করে চিনিকলের দিকে চেয়ে থাকেন। কিন্তু আধুনিকায়নের নামে আখ মাড়াই মৌসুম বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় আখ মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার কাজ বন্ধ থাকায় নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না। ফলে জীবিকা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ দুর্বল তদারকি, দায়সারা মনোভাব ও স্বচ্ছতার অভাব। বিদেশী বিশেষজ্ঞদের বছরের পর বছর থাকা, অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি, কাজের গতি না থাকা সব কিছুই দুর্নীতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এদিকে, আইএমইডি বলেছে এর পর আর সময় বা বরাদ্দ বাড়ানো হবে না।

প্রকল্প পরিচালকের দাবি, কাজ প্রায় শেষ। এবারের আখ মাড়াই মৌসুমেই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয়রা আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কাজ এখনো বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। বুঝিয়ে দিলে আমরা গ্রহণ করব। প্রকল্প পরিচালক ফিদাহ হাসান বাদশা বলেন, সব কিছু প্রায় শেষ। এবারের মৌসুমেই কার্যক্রম শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *