এখনই জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে না এনসিপি! এটা কি জামায়াতের সাথে এনসিপির দ্বন্দ্ব নাকি রাজনৈতিক কৌশল?
স্টাফ রিপোটার: জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি এবং নির্বাচনের আগে সনদের বাস্তবায়ন চাইলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এখনই যুগপৎ আন্দোলন বা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না এনসিপি। দলের অভ্যন্তরে আপত্তি ওঠায় এনসিপির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে, বিষয়টিকে আরো জোরালো করলো তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেন,‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আমাদের আরেকটি মওদুদীপন্থী দলের দরকার নেই। ইতিমধ্যেই তাদের হয়ে অর্ধডজন ‘প্রক্সি’ কাজ করছে। এর সঙ্গে আপনি নতুন আর কিছু যোগ করবেন না! বরং, (নিজেদেরকে) পুনঃসংজ্ঞায়িত করুন, পুনর্গঠিত করুন এবং পুনরুদ্ধার করুন।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এক প্লাটফর্মে এনসিপির আপাতত আন্দোলন না করার সিদ্ধান্তেরই যেন জানান দিলেন।
অপরদিকে, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনসহ যে দলগুলো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়, তারা জামায়াতের সঙ্গে কর্মসূচিতে থাকবে। অন্যরা বাকি চার দাবি সংস্কার, বিচার, নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবিতে নিজেদের মতো কর্মসূচি দেবে অথবা অবস্থান নেবে। গতকাল শনিবার জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসের নেতাদের বৈঠকে এসব আলোচনা হয় বলে দলগুলোর সূত্র নিশ্চিত করেছে। জামায়াত সূত্র জানায়, মধ্যপন্থি এবং বামপন্থি দলগুলোকেও এতে স্বাগত জানানো হবে। তবে কারও সঙ্গে জোট হবে না।এনসিপির সূত্র জানায়, জুলাই সনদ প্রশ্নে একমত হলেও দলটির নেতাদের একাংশ ধর্মভিত্তিক কোনো দলের সঙ্গে জোটে রাজি নন। সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টাও রাজি নন।
এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করলেও দাবি আদায় হওয়ার পরপরই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এই দুটি দল হঠাৎ কেন এই দ্বন্দ্বে জড়ালো সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্য হয়ে ওঠে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের দুইটি স্ট্যাটাস ঘিরে। ওই দুইটি স্ট্যাটাসের মধ্যে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি ‘সরিয়ে ফেললেও’ অনলাইনে তার স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। উপদেষ্টা মাহফুজের পোস্টের পর এ নিয়ে এনসিপি ও তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতাদের অনেককে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।

