জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ৩ দলের মতভেদে, সনদ স্বাক্ষরে অনিশ্চয়তা

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: সংবিধান সংস্কারে সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোট নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সময় দিতে চায় সরকার। এর আগে সনদ বাস্তবায়নের কোনো পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায় না। গতকাল রোববার ৩০ রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন বার্তা দিয়েছেন। তিনি কমিশনের সভাপতি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি বলছে, সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়া যেতে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি আইনি ভিত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধান আদেশ বা গণপরিষদের পরামর্শ দিয়েছে। স্বৈরাচার যেন আবার ফিরে আসতে না পারে, এজন্য সব পক্ষকে ঐক্যমতে পৌঁছানোর তাগিদ দেন প্রধান উপদেষ্টা। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রস্তুতের জন্য দুই ধাপে বেশ কয়েকদিন বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। নোট অব ডিসেন্টসহ ৮৪ বিষয়ে একমত হয় দলগুলো। তবে জটিলতা দেখা দেয় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রোববার বেলা ৩টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে অনড় অবস্থান থেকে বেরিয়ে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব দেয় রাজনৈতিক দলগুলো।

জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় না পৌঁছালে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের চেয়ারম্যান শারমীন আহমেদ। সে ক্ষেত্রে বড় দল হিসেবে বিএনপি একমাত্র নির্বাচনের দাবিদার হিসেবে মাঠে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। শারমীন আহমেদ বলেন, ‘জামায়াত ও এনসিপি, যারা দাবি করছে জুলাই আন্দোলনে তাদের বেশি অংশগ্রহণ ছিল, তারা রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি চাইবে। সেটা নিয়ে সমঝোতাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে বিএনপিও নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করবে। দুই ধরনের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেটা নির্বাচনের পরিবেশকে নষ্ট করবে, ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিরাপদ মনে করবেন না।’
জামায়াত থেকে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ঠিক হলেই তাঁরা স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে সময় স্বাক্ষরের জন্য নাম পাঠাবে দলটি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখনো সনদ হয়নি। হলেই তো স্বাক্ষরের বিষয়টি আসবে। কমিশনের রোববারের (আজ) আলোচনার ধরন দেখেই আমরা স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
সংবিধান সংস্কারে সাংবিধানিক আদেশ বা গণভোট নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সময় দিতে চায় সরকার। এর আগে সনদ বাস্তবায়নের কোনো পদ্ধতি চাপিয়ে দিতে চায় না। গতকাল রোববার ৩০ রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন বার্তা দিয়েছেন। তিনি কমিশনের সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *