অনেকেই নজর রাখছেন ভারতীয় কূটনৈতিক, বিশ্লেষক এবং সংসদ সদস্য শশী থারুরের বিশ্লেষণের দিকে
সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: ডাকসুতে শিবিরের জয় ভারতের জন্য উদ্বেগজনক: শশী থারুর। ডাকসু’র ফলাফল নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক। নানা মূল্যায়ন। এসব মূল্যায়নে ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত। কী হলো, কী হবে? ভবিষ্যৎ রাজনীতি কি এভাবেই ওলটপালট হয়ে যাবে! অনেক পর্যবেক্ষক সংশয় প্রকাশ করছেন। বলছেন, এটা নাও হতে পারে। তবে এটা যে ওয়েক-আপ কল এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভারতীয় কূটনৈতিক, বিশ্লেষক এবং সংসদ সদস্য শশী থারুরের বিশ্লেষণের দিকে অনেকেই নজর রাখছেন। তিনি বলছেন, বাংলাদেশের বড় দু’টি দলের অতীত এবং বর্তমান কার্যক্রম থেকে অনেক ভোটার নিষ্কৃতি পেতে চাচ্ছেন। যে কারণে ভোটের বাক্সে বিপ্লব ঘটেছে শিবির তথা জামায়াতের। ভোট নিয়ে অনেক অনিয়মের কথাই শুনছি। তবে কিছু আশ্চর্যজনক কৌশল যে ছিল- এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখানে মানবিকতার কৌশলকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গত এক বছরে শিবির যে কার্যক্রম চালিয়েছে তাও আমলে নেয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শিবিরের প্রার্থী সিলেকেশন দেখে তারা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ওরা কী কৌশল নিচ্ছে। আর ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমের পরিচিতি তো আগেই ছিল। ছাত্রদল বাইরের পপুলার ভোটের উপর ভরসা করে বিজয় ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল।
শশী থারুর তার পোস্টে লিখেছেন, ‘অধিকাংশ ভারতীয় হয়তো বিষয়টিকে সামান্য বিষয় হিসেবে দেখেছে। কিন্তু এটি ভবিষ্যতের জন্য এক উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। বাংলাদেশে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল—(এখন নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি— দুই দলের প্রতিই মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। যারা ‘দু’পক্ষেরই সর্বনাশ হোক’ চাচ্ছেন তারা ক্রমশ জামায়াতে ইসলামী (জেইআই)-এর দিকে ঝুঁকছেন। এর কারণ এই নয় যে ভোটাররা উগ্রপন্থী বা ইসলামপন্থী মৌলবাদে বিশ্বাসী, বরং জেইআইকে তারা দেখছেন এমন একটি শক্তি হিসেবে, যেটি দুই মূলধারার দলের মতো দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাসহ কোনোভাবেই কলুষিত হয়নি।’ তিনি লিখেছেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এ পরিস্থিতি কীভাবে প্রতিফলিত হবে? তখন কি নয়াদিল্লিকে তার প্রতিবেশী দেশে জামায়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের মুখোমুখি হতে হবে?’

