পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারে: প্রেস সচিব

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক, অনলাইন ডেস্ক: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তিই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া নেয়া নিদেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনূস। স্বচ্ছতা বজায় রেখে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই নির্বাচন ঠেকানোর। শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টাম-লীর বৈঠক থেকে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যেন বিঘিœত না হয় সে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘœ হয়, নিরাপত্তা যেন আগে থেকে নেওয়া হয় সে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সব ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরাজিত শক্তি বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে সব শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজকের উপদেষ্টাম-লীর বৈঠক থেকে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যেন বিঘিœত না হয় সে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এ সময় প্রেসসচিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। শফিকুল আলম বলেন, ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রেস সচিব বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানা রকম ষড়যন্ত্রমূলক চেষ্টা হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, গত বছর দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে এ বছরও কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে তিনি আগে থেকেই সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেন। শফিকুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে উন্নতি হয় সেজন্য সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের বুঝতে হবে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ ৫ আগস্টের পর ১ হাজার ৬১৫টার মতো ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন ৪টি করে ঘটনা ঘটেছে বা বিক্ষোভ হয়েছে। তার মধ্যে ৬০০টি ঘটনা ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত। একটা বিপ্লবের পড়ে যে চাওয়া তৈরি হয়েছে সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে সবাই বিক্ষোভ করছেন। সবাই তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে রাস্তায় আসছেন। যেহেতু আগের সরকার গত ১৫ বছর নিপীড়ন করেছে, এই ধরনের বিক্ষোভকে দমন করেছে, তাই এখন সবাই তাদের দাবি দাওয়াগুলো এই সরকারের সময় আনছেন। এই সরকার এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যথেষ্ট ধৈর্যের সঙ্গে এই বিষয়গুলো মোকাবিলা করছে। উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,চার দফা দাবিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে দেশবিরোধী শক্তির ইন্ধন রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। সরকার এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিষয়ে সরকার সহনশীল, কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ কিংবা গ্রাহক সেবা ব্যহত হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা শুরু হয়েছে।বদলিকৃতদের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের আদেশগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কোনও প্রয়োজন নেই বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। উল্লেখ্য, চাকরিতে বৈষম্য দূরীকরণ ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণছুটিতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

ক্যালেন্ডার মেনে বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার॥ গতকাল বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা ও নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। বিসিএস পরীক্ষা হলো ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তারাই সরকার চালাবে। কাজেই এন্ট্রি পয়েন্টে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম হয় তাহলে গোটা সিস্টেমে সেটার প্রভাব থেকে যাবে। সমস্যা ও সংকট যেগুলো আছে দায়িত্ব নিয়ে সেগুলো সমাধান করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে। যারা ভবিষ্যতে সরকার চালাবে তাদের জন্যও এটা প্রয়োজন,’ বলেন তিনি। বৈঠকে সরকারি কর্ম কমিশনের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেন কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যেই পাঁচ বছরের রোডম্যাপ দিয়েছে এবং প্রতিবছর নভেম্বর থেকে পরের বছরের অক্টোবর মধ্যেই পরীক্ষা ও নিয়োগ সম্পন্ন হবে। কমিশন সদস্যরা জানান, গত ১৫ বছর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বিসিএস পরীক্ষায় নানান ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটেছে। পিএসসিতে যেন আর কখনো অনিয়ম ফিরে না আসে, এটি যেন সকলের আস্থার জায়গা হয় সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের মান এমনভাবে উন্নীত করা হচ্ছে যাতে এই পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রতিযোগিতা করতে পারেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব ড. মো: মোখলেস উর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া এবং পিএসসি সদস্য মো. সুজায়েত উল্যা, মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ড. এম সোহেল রহমান, অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শাহনাজ সরকার ও বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *