সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি কারাগারে

সেখ রাসেল, সহকারী দপ্তর সম্পাদক: সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে জেলহাজতে/কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মোছা. ইসমত আরা নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ০৩/০৯/২০২৫ তারিখে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. বজলুর রশিদ ও আজিজার রহমান (দুলু)। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ২০২০ সালের ১৩ মার্চ রাতে ৫ বছর আগে কুড়িগ্রামে কর্মরত থাকাকালে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাড়ি থেকে তুলে অমানবিক নির্যাতন করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করেন। সাংবাদিক রিগান পরে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ মামলা দায়ের করেন।
সে মামলায় সুলতানা পারভীন হাই কোর্ট থেকে জামিন পান। গতকাল কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে জামিন নিতে এলে বিচারক নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাৎক্ষণিক এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসক ছাড়াও তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে নির্যাতন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার হুমকি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। পরে আরিফুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিক আরিফুল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। পাঁচ বছর ধরে মামলাটি চলছে। সম্প্রতি অভিযুক্ত সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। স্থায়ী জামিনের জন্য গতদিন তিনি আদালতে হাজির হন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন আদালতে জামিন নিতে এলে আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *