মতলবে ঝগড়া থামানোর জেরে একজনকে ছুরিকাঘাত
মোঃ খোরশেদ আলম: মতলব পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সওদাগর বাড়িতে মা বাবার সাথে সন্তানের ঝগড়া থামানোর জের ধরে ফরিদ সওদাগর (৬০) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মতলব লঞ্চঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক নূর মোহাম্মদ নিজেই মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
সরেজমিনে জানা যায়, সওদাগর বাড়ির গনি সওদাগরের ছেলে নূর মোহাম্মদ তার মা মিলন বেগমের কাছে টাকা চেয়ে বাড়িতে ঝগড়া করে। মায়ের কাছে টাকা না পেয়ে বাড়ির পাশে কড়ই তলায় তার বাবার দোকানে এসে টাকা দাবি করে। বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ দোকানেই বাবা ও ভাই উদয়ের সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাদের মারধর করে। এই ঘটনায় উপস্থিত ফরিদ সওদাগর বাধা দিতে গেলে তার উপর চওড়াও হয় নুর মোহাম্মদ। এদিকে ফরিদ সওদাগরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার ছেলে সুমন সওদাগর ঘটনাস্থলেই নূর মোহাম্মদকে মারধর করে। পরে ফরিদ সওদাগরের অপর ছেলে সুজন সওদাগর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নূর মোহাম্মদকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ঘাতক নূর মোহাম্মদ ছুরি হাতে মতলব লঞ্চঘাটের রনির চায়ের দোকানে সামনে এসে ফরিদ সওদাগরকে দেখতে পেয়ে চুরিকাঘাত করে জনরোষ থেকে বাঁচতে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। ওদিকে আহত ফরিদ সওদাকরকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করে।
ফরিদ সওদাগরের ছেলে সুজন সওদাগর বলেন, তার ( নুর মোহাম্মদ) ছুরির আঘাতে আমার বাবার পেটের ডান পাশে বিশাল বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ করব। অপরদিকে ঘাতক নূর মোহাম্মদ বলেন, টাকার জন্য আমি প্রথমে বাড়িতে আমার মায়ের সাথে ঝগড়া করি। তিনি টাকা না দিলে দোকানে এসে বাবার কাছে নাস্তার জন্য টাকা চাই। কিন্তু সেই সময় সে ( ফরিদ সওদাগর) আমাকে নিয়ে টিটকারি মারলে আমার রাগ হয়। থানার অফিসার্স ইনচার্জ সালেহ আহাম্মদ বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচতে ঘাতক নূর মোহাম্মদ নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে তাকে আটক রাখা হয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। ক্যাপশন: ছুড়িকাঘাতে আহত ফরিদ সওদাগর।

