মোরেলগঞ্জে জন্মনিবন্ধন জটিলতায় স্কুলবিমুখ ৫০ শিশু, ইউনিয়ন পরিষদে চলছে চরম অনিয়ম

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলবর্তী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে মাসের পর মাস হয়রানির ¯ী^কার হচ্ছে সাধারণ নাগরিকরা। নতুন জন্মনিবন্ধনের টিকাকার্ডসহ আবেদন করেও ৫০ শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। উপবৃত্তি থেকে হয়েছে বঞ্চিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক পরিষদে অনিয়মিত। স্থানীয়দের দাবি ইউনিয়ন নাগরিক সেবাসহ পরিষদের সকল কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখার।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গত ৫ আগষ্টের পর চেয়ারম্যান মাষ্টার মো. সাইদুর রহমান আত্মগোপনে থাকায় পরিষদের সকল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ৪ মাস পূর্বে উক্ত পরিষদে উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মো. মনিরুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেও। সে অনিয়মিত ওই পরিষদে সপ্তাহে মাত্র ১দিন অফিস করছেন। যে কারনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় নাগরিকরা ওয়ারিশ কায়েম, জন্মসনদ, প্রত্যায়ন, মৃত্যুসনদ, পরিচয় পত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে মাসের পর মাস হয়রানির ¯ী^কার হতে হচ্ছে।
পরিষদের উদ্যোক্তা ও ইউপি সচিবের অন্তঃদ্বন্ধে অনলাইনে শতাধিক নতুন জন্মনিবন্ধনের আবেদন ফাইলবন্ধি অবস্থায় পড়ে থাকায় আবেদনকারিরা ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পায়ে হেটে প্রতিনিয়ত ফিরে যেতে হচ্ছে পরিষদ থেকে।

সেবা নিতে আসা ছোটপরী গ্রামের শহিদুল ইসলাম, মধ্য বরিশাল গ্রামের দুলাল কাজি, বানিয়াখালী গ্রামের রুবেল, চালিতাবুনিয়া গ্রামের বেয়ায়েত শেখ সহ একাধিকরা বলেন, ২০ দিন পূর্বে জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যু সনদের আবেদন করে হাতে কপি পেলেও প্রশাসকের স্বাক্ষর করাতে পারেনি। আবার অনেকে মাসের পর মাস আবেদন করে ফিরে যাচ্ছেন। এ ভোগান্তির শেষ কোথায়?। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এর মধ্যে বড়পরী গ্রামের রাফিয়া আক্তার, মানিকজোর গ্রামের মাইনুল হাওলাদার, তাসিন হাওলাদার, চালিতাবুনিয়া গ্রামের আবিদ ফরাজী, ফারিয়া আক্তার, আবু তোহাসহ অর্ধশতাধিক শিশুর পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন না হওয়ায় ওই শিশুরাও তাদের জন্মনিবন্ধন করতে পারেনি। যে কারনে স্কুলে ভর্তিসহ উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে এক বছর পিছিয়ে পড়েছেন শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি আবেদনকারি শিশুদের টিকা কার্ড থাকা সত্¦েও জন্ম নিবন্ধন কেনো হলো না? এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে অভিভাকদের।

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রশাসক অনিয়মিত অফিস করায় পরিষদটি এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা নিয়মিত সরকারি রাজস্ব ট্যাক্সের টাকা আদায় করা হলেও সঠিকভাবে ব্যাংকে জমা প্রদান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক নিজেও জানেনা এ অর্থ বছরে নাগরিকদের কাছ থেকে হোল্ডিং ও ট্রেড লাইসেন্সের কত টাকা আদায় হয়েছে।

পরিষদের উদ্যোক্তা রেশমা আক্তারের দপ্তরের সরকারি অর্থব্যায়ে ক্রয়কৃত কম্পিউটার, ল্যাবটপ, রাউডার, অনুসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ অফিস কক্ষ থেকে উধাও। ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের পারসোনাল লোক সেজে কথিত উদ্যোক্তা হয়ে অনলাইনের কাজ করছে দুই যুবক। গোটা পরিষদে কার্যক্রমে চলছে হরিলুট। যে যার প্রভাব খাটিয়ে চলছে।

পরিষদের উদ্যোক্তা রেশমা আক্তার বলেন, অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের শতাধিক নতুন আবেদন ৩/৪ মাস ধরে জমা রয়েছে। এর মধ্যে টিকাকার্ডধারী শিশুদের জন্মনিবন্ধন আবেদন রয়েছে প্রায় ৫০টি। পিতা-মাতার জন্ম সনদ না পাওয়ায় তাদের জন্মনিবন্ধনও হচ্ছে না। তিনি তার কাজ শেষ করেছেন। এখন বাকি কাজ সচিব ও প্রশাসকের। তার অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, অনুসহ নানা যন্ত্রাংশ উঠাও বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসককে অবহিত করেছেন।

এ বিষয়ে খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি গত ৪ মাস পূর্বে ওই পরিষদে প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় মূল অফিসের কাজ শেষ করে অনেক সময় পরিষদে যেতে পারছেন না। তবে, শিশুদের জন্মনিবন্ধনের আবেদনের বিষয়টি তিনি অবহিত নন। তার আইডিতে কোন আবেদনই পেন্ডিং নেই। হোল্ডিং, ট্রেড লাইসেন্সের আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা প্রদান হয়েছে কিনা অদ্যবধি পর্যন্ত সচিব তাকে অবহিত করেননি। এমনকি ব্যাংক একাউন্ট অথারাইজ এখনও তার নামে যুক্ত করেননি। এ বিষয়টি সচিবই ভালো জানে।

এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, খাউলিয়া ইউনিয়নে নতুন জন্মনিবন্ধনের আবেদনসহ নাগরিক সেবা নিতে এসে কোন মানুষই হয়রানি না হয়। সে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দ্রæত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। অনিয়মের বিষয়গুলো সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *