জুলাই ঘোষণাপত্রের আয়োজনের নেপথ্যে কারা, প্রশ্ন মোস্তফা ফিরোজের
প্রধান প্রতিবেদক:
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, ‘একটি বিষয় দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি, আগামীকাল (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। কিছুক্ষণ আগে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে স্ক্রলে দেখলাম, বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলছেন—বিএনপি এই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত, কিন্তু তারা এখনো পর্যন্ত ওই ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠানে কোনো দাওয়াত পায়নি।’ গতকাল সোমবার (৪ আগস্ট) তিনি তার ইউটিউব চ্যানেলে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখলাম বলা হচ্ছে, বিএনপিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। অথচ এই ঘোষণা তো সব দলের অংশগ্রহণে হওয়া উচিত। এটা কোনো আমলাতান্ত্রিক অনুষ্ঠান নয়। এটা যদি জনগণের অভ্যুত্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে হওয়া উচিত। অথচ তারা ৮ জোড়া ট্রেন ভাড়া করেছে, ৩০ লাখ টাকা খরচ করছে ছাত্রজনতাকে আনার জন্য। প্রশ্ন হলো—এই ‘ছাত্রজনতা’ কারা? বিএনপি কি এই ছাত্রজনতার অংশ নয়?’
তিনি আরো বলেছেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে বলছেন তারা এখনো দাওয়াত পায়নি, আর অন্যদিকে ট্রেন ভাড়া দিয়ে ছাত্রজনতা আনা হচ্ছে। তাহলে কি এই আড়ালে কোনো গোপন সংগঠন কাজ করছে? সরকারের তো নিজস্ব কোনো দল নেই, তাহলে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার পেছনে কারা আছে? ডিসি বা এনসপিদের উপর কি দায়িত্ব পড়েছে এ আয়োজনের? সবকিছু অস্পষ্ট।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে অভ্যুত্থান ৫ আগস্ট দলমত নির্বিশেষে জনগণের অংশগ্রহণে হয়েছিল, আজ কেন সেই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে দলগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে? এখন আর নিরপেক্ষ কেউ নেই। সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। তাহলে যে ‘ছাত্রজনতা’ ট্রেনে আসবে, তারা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছে?
মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, ‘এটা আরো বিস্ময়ের যে বিএনপির মতো বড় দলের একজন শীর্ষ নেতা বলছেন তারা দাওয়াত পাননি, অথচ অন্য কেউ বলছেন তিনি দাওয়াত পেয়েছেন। তাহলে কি এখানে ঘোর প্যাঁচ লুকিয়ে আছে?’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুললেও বিএনপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। জাতীয় ঐক্যমত ও সংস্কার কমিশনের ১৯টি প্রস্তাবনার মধ্যে বিএনপি ১২টিতে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তো মনে করি—মূল বিষয়টি হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, সেটাই এখনো নিশ্চিত নয়।
তাই আমার মনে হচ্ছে, এই পুরো আয়োজন নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে—কারা আসছেন, কারা আসছেন না, বুঝতে পারছি না।’

