ভাতার কার্ড বাণিজ্য-সাগরিকা মেম্বারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ!
সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ সংবাদদাতা-
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩ নম্বর সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের ৪,৫,৬ সংরক্ষিত-২ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সাগরিকা পারভিনের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, সাগরিকা পারভিন একাধিক সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাতার কার্ড করে দেন। তবে সেই কার্ডের টাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার নানা কৌশলের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
বাটিডাঙ্গা গ্রামের পাখিরন নামের এক নারী অভিযোগ করেন, মেম্বার সাগরিকা তার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা নিয়ে ভাতার কার্ড করে দেন। কিন্তু কার্ডে যে নগদ নম্বর ব্যবহার করা হয়, সেটি সাগরিকার ভাবির মোবাইল নম্বর। ফলে ভাতার টাকা এলেও, তা মুহূর্তেই তুলে নেন মেম্বার নিজে। একপর্যায়ে বিষয়টি ধরা পড়ে পাখিরনের ছেলে সাব্বিরের হাতে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে সাগরিকা বাধ্য হয়ে জরিমানা দেন পাখিরনকে।
আরও জানা গেছে, বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের মন্টু মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগমের কাছ থেকে পঁচিশ শত টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নিলেও সুফিয়ার কপালে জুটেনি একটি ঘর।
একই গ্রামের সামিরনের থেকে পাঁচ শত টাকা নিয়ে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাকেও কার্ড করে দেয়নি ঐ মহিলা মেম্বার।
অন্যদিকে, গোবড়াপাড়া-রাধানগরের রুনা নামের এক নারী অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকেও ৫০০০ টাকা নিয়ে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন সাগরিকা পারভিন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিবন্ধী ভাতার পরিবর্তে তাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়। অথচ তার স্বামী আব্দুল মোতালেব এখনও জীবিত। রুনা বলেন, আমি কাগজ জমা দিয়েছিলাম। কয়েক মাস পর পর আমার ছেলের ফোনে টাকা আসে, তবে কী ভাতা তা জানি না। রুনার ছেলে মুন্নাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগরিকা পারভিন এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন। এমনকি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্যও এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাগরিকা পারভিন বলেন, এগুলো মিথ্যা কথা। আমি এসবের কিছুই জানি না। আর আমাদের ইউনিয়নে এমন স্বামী বেঁচে আছে কিন্তু বিধবা ভাতার কার্ড অনেকের আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমি জানি না। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, যদি রক্ষকই ভক্ষক হয়ে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের আর যাওয়ার জায়গা কোথায়? ভয়ের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস করেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস মিললেও, এলাকাবাসী প্রকৃত বিচার ও জবাবদিহিতা চায়।

