ইসলামি আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে জখম, মুকুট বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ।
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের র্যালি আবাসিক এলাকায় কিশোর গ্যাং মুকুট বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ২২নং ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম জনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ১৯ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ১২টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে মুকুট ভূঁইয়া (২০), পিতা- সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া পনির এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী যুবরাজ মার্কেটের সামনে সাইফুল ইসলাম জনির ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা ও অন্যান্য দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত করে। আহত জনিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মুকুট ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা এবং নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। এলাকাবাসী ও ইসলামি আন্দোলনের কর্মীরা এসব অপরাধের প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জুলাই রাতে র্যালি আবাসিক এলাকার জুম্মান (২২) নামক যুবককে মিরাজ, মিনহাজসহ মুকুট বাহিনীর সদস্যরা মারধর করে আহত করে। ওই ঘটনার পরপরই ১৮ জুলাই মোঃ সাইফুল ইসলাম জনি বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন (অভিযোগ নম্বর: ৬৬৯০/২০২৫)।এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিশোধ নিতে ১৯ জুলাই জনির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগে মুকুট ভূঁইয়া ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়—তারা হলো:মোঃ সাকিভ (১৮), পিতা-অজ্ঞাত, মোঃ মিরাজ (১৮), মোঃ মিনহাজ (১৮), পিতা- মোঃ আক্তার, ইজাজ (১৯),পিতা- অজ্ঞাত, বিজা (১৭), পিতা- বাচ্চু মিয়া এছাড়া আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন এই হামলায় জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মুকুট মৃদুই গ্যাং নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবসমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।ঘটনার খবর পেয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর শাখার সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বন্দর থানায় ছুটে যান। তিনি ওসিকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এখনই দমন না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।তিনি আরও বলেন, কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর স্থান বন্দরে হবে না। প্রয়োজনে আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানাব।এদিকে, বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।এলাকাবাসীর দাবি, মুকুট বাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
