কোটচাঁদপুরে চালের কার্ড পেতে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে সাবেক মেম্বার জমির
মোঃ সুরুজ, ঝিনাইদাহ
কোটচাঁদপুরে যে হাত একসময় শত শত মানুষের ভাতার কার্ড, বিধবা ভাতা ও চালের কার্ড করে দিয়েছে আজ সে হাত দিয়েই নিজের ছেলের বউয়ের জন্য চালের কার্ড পেতে হাত পাততে হচ্ছে। বয়স আর রোগে শয্যাশায়ী সাবেক ইউপি সদস্য জমির হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে অসুস্থ শরীর নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়ান ছেলের বউয়ের নাম চালের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার। জানা গেছে, গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা রেহেনা খাতুন, সাবেক ইউপি সদস্য জমির হোসেনের ছেলের বউ, ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ঠডই) প্রকল্পের আওতায় ৩০ কেজি চাল পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রনেকা খাতুনের কাছে জমা দেন। কিন্তু বুধবার রাতে জানা যায়, রেহেনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রনেকা খাতুন ও রেহেনাকে সঙ্গে নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা কার্যালয়ে ছুটে যান জমির হোসেন। এ সময় উপজেলা ভবনের সামনে দেখা হলে দুই চোখ বেয়ে পানি পড়তে পড়তে জমির হোসেন বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি কুশনা ইউনিয়নের মেম্বার ছিলাম। সেই সময় ইসলাম উদ্দিন চেয়ারম্যান ছিলেন। কত মানুষের কার্ড করে দিয়েছি। আজ নিজের ছেলের বউয়ের জন্য চালের কার্ড করাতে এই বয়সে, এই শরীর নিয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। তিনি জানান, গত ২৫ বছর ধরে তিনি কর্মক্ষম নন, সংসার চলে ছেলের আয়ে। তাই একটি চালের কার্ড তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার রনেকা খাতুন জানান, তিনি তিনজন নারীর কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন চেয়ারম্যানের কাছে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই কার্ড পাননি। কেন হয়নি সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে কুশনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুজ্জামান সবুজ বলেন, বর্তমানে এসব তালিকা তৈরিতে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তেমন ভূমিকা নেই। দলীয় নেতাদের প্রস্তাবিত তালিকাই মূলত নেওয়া হয়। তবুও দোষ এসে পড়ে চেয়ারম্যানদের উপর। উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিলা বেগম জানান, আমরা চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কাজ করি। তালিকায় নাম না থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আনিসুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এক সময় এলাকার ‘নামী মেম্বার’ হিসেবে পরিচিত জমির হোসেনের এই করুণ পরিণতি সমাজের সহানুভূতির দাবি রাখে। সরকার ঘোষিত কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছায় এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

