কোটচাঁদপুরে টেন্ডারবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্পদ বিক্রির অভিযোগ

মোঃ সুরুজ – ঝিনাইদাহ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি ৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা, জানালা, ছাদের রড, টেন্ডার বিহীন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্ত কুন্ডুর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায় গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মে, মাসে ঐ স্কুলের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ ছিল। সেই কক্ষটি ভেঙে নতুন করে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ তৈরী করতে উপজেলা এলজিইডি অফিস কাজ শুরু করেন। ভাঙা কক্ষটির দরজা, জানালা, ছাদের রড, টেন্ডার বিহীন বিক্রি করে দেন উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্ত কুণ্ডু। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দীন জানান, ছাদের। রড, দরজা, জানালা, রোজার সময় স্কুল বন্ধ থাকায় আমাদের না জানিয়ে কাজের ঠিকাদার নিয়ে চলে যায়। আমরা দরজা জানালা ছাদের রড না দেখতে পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাকি সালামের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। মালামাল কোথায় আছে তিনি জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডুর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেন্ডার করার দায়িত্ব আমার না, আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে বলেছি তিনি টেন্ডার দিবেন এটা আমার কাজ না। ছাদের রড দরজা জানালা বিক্রি করা হয়েছে কি জানতে চাইলে বলেন, আমি জানি না। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ দায়ের করেন, না জানিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে তখন বলেন না জানিয়ে কখনও নিতে পারে না। প্রধান শিক্ষক কে অবশ্যয় জানিয়ে নিয়ে গেছে ঠিকাদার। প্রধান শিক্ষক কে পুরাতন মালামাল বিক্রির ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন ঠিকাদার আমি। ছিলাম প্রধান শিক্ষক নেননি। কত টাকা বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন তা জানি না।

বাস্তবায়ন কারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলজিইডি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে বলেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার নাম মনে নেই। প্রকল্পিত ব্যয় কত টাকা তিনি বলেন, মনে নেয় দেখতে হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক আমার উপর দায় চাপিয়ে দিতে পারে না। তারা কোন ক্রমে দায় এড়াতে পারে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকি সালাম বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছিলাম তিনি টেন্ডার মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য। মূল্য নির্ধারণ না করে দিলে আমি এটা টেন্ডার করবো কিভাবে।

প্রকৌশলী উল্টো আমাকে ধমক দিচ্ছেন আপনার কাজ টেন্ডার করা কিন্তু আমি টেন্ডার করবো কিভাবে তিনি তো মূল্য নির্ধারণ করে দেননি। শুনেছি প্রধান শিক্ষকের নিকট ১০ হাজার টাকা দিচ্ছিল কিন্তু তিনি নেননি। কত টাকা বিক্রি করা হয়েছে আমি জানিনা টাকা কোথায় এটা জানতে চাইলে বলেন, তাও আমি জানিনা। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দীন জানান স্কুল ছুটি থাকার কারণে বন্ধ ছিল। সে কারণে মালামালগুলো আমাদের না জানিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এভাবেই একে অপরের দোষারোপ করে টেন্ডারবিহীন মালামাল বিক্রির সরকারি টাকা হরিলুট হয়ে গেলো, জানেন না কেউ। এবিষয়ে কাজের সাইড দেখাশোনা করা এক মাষ্টারের কাছে বার বার মোবাইল নাম্বার চাইলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম্বার না দিলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *